শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

বাকলিয়ার আতংকের আরেক নাম একাধিক মামলার আসামি জানে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪
  • ১৪৯ টাইম ভিউ

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকার জানে আলম। তিনি চাঁদাবাজি ও শ্রমিক নির্যাতন করে অনেকবার এসেছেন আলোচনায়, হয়েছে মামলাও। কিন্তু তারপরেও দমে যাননি; একের পর হামলা চালিয়েই যাচ্ছেন নগরীর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জানে আলমকে নিয়িিমত চাঁদা না দিলেই তিনি শুধু হামলা করেন।

জানে আলম (৪১) চন্দনাইশ থানার পশ্চিম কেশুয়ার মৃত গুরা মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে নগরীর বাকলিয়া থানায় ডাকাতি, মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলা এবং চন্দনাইশ থানায় ১টি করে ৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, শ্রমিক নির্যাতন, লুটপাটের পাশাপাশি ভূমিদস্যুতারও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের (সিএমপি) কাছে একটি আবেদন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য  তাদের ভাষ্য, জানে আলম কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছেন।

এলাকা বাসির  দাবি, জানে আলম কিশোর গ্যাং লালন পালনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। জানে আলম দশ বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। এলাকাবাসী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা, কর্মীরা নাজেহাল হচ্ছে। প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও নানা কায়দায় পার পেয়ে যাচ্ছেন জানে আলম। তিনি গত ২১ মে চাঁদাবাজির একটি মামলায় বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘কিশোর গ্যাং কালচার রোধে এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। কথিত বড় ভাইদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। স্কুলে-স্কুলে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। একইভাবে অভিভাবকদেরও সচেতন করার কাজ করছি।’

সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে কথিত বড় ভাইদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।’

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীতে সক্রিয় রয়েছে আড়াই শতাধিক কিশোর গ্যাং চক্রের ২ হাজারের মতো সদস্য। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় নগরীর বায়েজিদ, কোতোয়ালি, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, ইপিজেড, পতেঙ্গা, হালিশহর এলাকায়। বাকলিয়ায় জানে আলমের ছত্রছায়ায় থেকে চাঁদাবাজি, হামলা ও লুটপাট চালায় কিশোর গ্যংয়ের সদস্যরা।

জানা গেছে, পরিবহন শ্রমিকদের জিম্মি করে জানে আলম এমন কোনো অপরাধ নেই যা বাকলিয়া ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় করেননি। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাকলিয়া থানার কর্ণফুলী সেতু সংযোগ সড়কের রাজাখালি এলাকায় সদ্যপ্রয়াত হাজী আবুল কাশেমের মালিকানাধীন বাংলাদেশ টিম্বার নামক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট ও  অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মামলা নিলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।

ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানার রাজাখালী মীর ফিলিং স্টেশনের পূর্ব পাশে ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ টিম্বার ডিপো নামে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে জানে আলম ও তার বাহিনী প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের দারোয়ানসহ অন্য কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কেয়ারটেকার রাজু আহত হন।

মামলার বাদী নজরুল ইসলাম জানান, হামলাকারীদের এমন হামলার প্রেক্ষিতে ডিপোতে কর্মরত অন্য কর্মচারীরা ভয়ে পালিয়ে গেলে দুষ্কৃতিকারীরা তাদের এবং ভাড়াটিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় অফিসের লকার ভেঙ্গে লক্ষাধিক টাকাও লুট করে নিয়ে যায়।

নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে গেলেও পুলিশ নীরব দর্শকের মতন দাঁড়িয়ে থাকে। পরে থানায় মামলা করতে গেলে ওসি থানায় নেই জানিয়ে মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মামলাটি নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। মামলায় জানে আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর