আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অনেকদিন ধরেই মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠে মালয়েশিয়া। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মালয়েশিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহন করে নিয়ে যাওয়া নৌকাগুলোকে তাদের জলসীমায় ঢুকতে দিচ্ছে না। দেশটি সেখানে থাকা অবৈধ শরণার্থীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে। এ ধরনের কয়েক হাজার শরণার্থীকে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক করে রেখেছে তারা। এমনই এক ডিটেনশন সেন্টার থেকে মিয়ানমারের শতাধিক রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসী পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক রুসলিন জুসোহ জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় এক অভিবাসীর মৃত্যু হয়। পালিয়ে যাওয়া অন্যদের ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে পশ্চিমাঞ্চলীয় পেরাক রাজ্যের বাইদোর অভিবাসী আটক কেন্দ্র থেকে মোট ১৩১ জন অবৈধ অভিবাসী পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, বাইদরের ওই বন্দিশিবিরে গতকাল বৃহস্পতিবার দাঙ্গায় জড়ান ১১৫ রোহিঙ্গাসহ আরও ১৫ জন। তাদের সবাই পুরুষ। এরপর তারা বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে যান। পালানোর পর রাতের অন্ধকারে গাড়ির ধাক্কায় একজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। তার পরিচয় জানা যায়নি। তবে কী কারণে বন্দিশিবিরে দাঙ্গার সূত্রপাত হলো, তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া সবাইকে পুনরায় আটকের চেষ্টা করছে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী।
পেরাক পুলিশের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার সংবাদ মাধ্যম মালয় মেইল জানিয়েছে, ওই ১৩১ জন কারাগারের পুরুষ ব্লক থেকে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ১১৫ জন রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর শরণার্থী ও ১৬ জন মিয়ানমারের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর সদস্য। তাদের মধ্যে থেকে মারা যাওয়া লোকটি মহাসড়কে একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল।
এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কেদাহ রাজ্যে ডিটেনশন সেন্টার ভেঙে ৫৮২ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে গিয়েছিল। সেই সময় মহাসড়ক ধরে পালানোর সময় গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছিল ছয়জন।
এছাড়া গত বছর ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে সাগর পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার পথে অন্তত ৫৬৯ রোহিঙ্গা মারা গেছেন যা ২০১৪ সালের পর সর্বোচ্চ। মূলত দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে ভ্রমণ করার সময় দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। দেশটিতে তারা নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন নিম্ন মজুরির পেশায় যুক্ত রয়েছেন।