রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩ পুনর্বিবাহ না করলে আজীবন পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী, বিপত্নীক স্বামী সিগারেট-ওষুধসহ ১১ খাতে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক যত দ্রুত সম্ভব সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যা: আদালতে ৩ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হচ্ছেন চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২ জবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে রাস্তায় নেমেছি : জামায়াত আমির

যত দ্রুত সম্ভব সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ টাইম ভিউ
যত দ্রুত সম্ভব সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি-সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই আলোচনা শেষ করে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে আপত্তিসহ (নোট অব ডিসেন্ট) স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরকার ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। সনদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য ৪৮টি দফা এবং আইন ও বিধিবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য আরও ৩৬টি দফা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ আইনি বিষয় ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে আর কিছু আইন প্রণয়নের কাজ অবশিষ্ট রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ১৫টি দলের প্রতিনিধি সরাসরি অংশ নেন, একটি দল লিখিত মতামত পাঠায় এবং আরও একটি দল প্রতিনিধির অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপস্থিত হতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কথা বলতে পারি। অন্য দলগুলো বিভিন্ন কারণে এখনো অংশ নেয়নি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিও রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাঁরা আজ অংশ নেননি, ভবিষ্যতেও তাঁদের জন্য আলোচনার দরজা খোলা থাকবে। কোনো নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল চাইলে লিখিতভাবে মতামত জমা দিতে পারবে এবং কমিটি তা বিবেচনা করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন মত ছিল—যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী পাস করা। আমরা যদি সমঝোতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে পারি, জাতি বুঝতে পারবে, জুলাই জাতীয় সনদ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে।’

কমিটি ইতিমধ্যে প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের পর সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিল আকারে সংবিধান সংশোধনী উত্থাপন করবে। এরপর সংসদে দীর্ঘ বিতর্কের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে জাতীয় জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব এলে সেটিও আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, আজকের বৈঠকে কিছু নতুন প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে ‘People’s Republic of Bangladesh’-এর বাংলা অনুবাদ ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ হবে কি না—এমন একটি প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি আগে আলোচিত ও মীমাংসিত হলেও কমিটি তা তাদের রেজল্যুশনে অন্তর্ভুক্ত করবে।

তবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন করে সংস্কার কমিশনের সব প্রস্তাব পুনরায় আলোচনায় আনলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ, ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শেষে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে।

উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্টের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে থাকলেও সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের ভিন্ন মত রয়েছে। সনদে ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হলেও বিএনপি সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে।

এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয় উচ্চকক্ষে যাবে—এ প্রস্তাবেও বিএনপি একমত নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু নিম্নকক্ষ সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে, তাই সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সেখানেই থাকা উচিত। যেসব বিষয়ে আমাদের নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেগুলো আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। জনগণের ম্যান্ডেট পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে পরিবর্তন করে এপ্রিল-মার্চ করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অধিকাংশ অর্থ ছাড় হয়, যা বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি করে। এতে আর্থিক অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশের ঋতুচক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু করতে সংবিধানের দুটি স্থানে সংশোধন আনতে হবে।

বিরোধী দল না থাকায় সংবিধান সংশোধনের আলোচনা একপক্ষীয় হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একপক্ষীয় তো হচ্ছে না, ১৭ পক্ষ হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেননি, তাঁরাও চাইলে মতামত দিতে পারবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে আবার সবাইকে ডাকতে না পারলেও লিখিত মতামত গ্রহণ করা হবে। আমাদের অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সে জন্য প্রতি সপ্তাহে একটি মিটিং করার চেষ্টা করব।’

অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে আপনাদের আনা সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি যদি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসে এবং পার্লামেন্টে যদি তাদের টু-থার্ড মেজরিটি নাও থাকে, অন্যান্য দলের সমর্থনে যদি টু-থার্ড মেজরিটি পায়, তখন জনহিত ও সমাজের চাহিদা অনুসারে যদি কোনো বিধান পরিবর্তন করতে চায়, তারা সেটা করতে পারবে। তখন তারা বলবে, জনগণ যাদের প্রতিনিধি বানিয়ে পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে, তাদের ম্যান্ডেট আছে। তারা যখন কোনো বিধান পরিবর্তন করতে চাইছে, তখন তারা সেটা পারবে। পৃথিবীর ইতিহাসে সংবিধান সংশোধনের ইতিহাস দেখবেন—কোনো কোনো দেশে শতাধিকবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলো বিএনপির সমমনা কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সবাই বিএনপির সমমনা নয়। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বক্তব্য দিয়েছে। তারা বক্তব্য দিয়ে চলেও গিয়েছে, এটা গণতান্ত্রিক রীতি।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বলছে এ সংশোধনী টিকবে না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন যদি কখনো মেজরিটি পায়, তাহলে হয়তো না-ও টিকতে পারে।

কমিটি কবে নাগাদ প্রতিবেদন দিতে পারবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা চিন্তা করছি, বাই দ্য এন্ড অব ডিসেম্বর…আমরা আমাদের আলোচনাগুলো শেষ করতে পারব এবং ইতিমধ্যে আমাদের রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

আরও এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ করছে না, কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিল যখন আসবে, তখন তারা অংশগ্রহণ করবে না, সে কথা বলেনি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর