শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরিশাসে ভারী কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে নিন্দা জামায়াতের জামায়াতকে রুখে দিতে না পারলে দেশে আরও একটি বিপর্যয় হবে: নুর আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতেই পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী টেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩৫

রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার গভীর রহস্য প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
  • ১০৫ টাইম ভিউ

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদোল্লাহিয়ানকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে কী ঘটেছিল তা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ গোলাম হোসেইন ইসমাইলি। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নিয়ে ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসমাইলি এসব তথ্য জানান। তিনি ওই বহরের অন্য হেলিকপ্টারে ছিলেন।

ইসমাইলি জানান, ১৯ মে স্থানীয় সময় বেলা একটা নাগাদ হেলিকপ্টার তিনটি যাত্রা শুরু করে।

ওই সময় আবহাওয়া চমৎকার ও স্বাভাবিক ছিল। প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মাঝখানে ছিল। সামনে একটি ও পেছনে আরেকটি হেলিকপ্টার ছিল।
পুরো বহরের দায়িত্বভার ছিল প্রেসিডেন্ট রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটির পাইলটের ওপর।

ইসমাইলি বলেন, যাত্রা শুরুর ৪৫ মিনিট পর রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের পাইলট অন্য দুটি হেলিকপ্টারের পাইলটকে আরো উঁচুতে উঠে ভ্রমণ করার নির্দেশ দেন। মূলত কাছাকাছি থাকা ঘন মেঘ এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।
ইসমাইল বলেন, ‘ওই সময় হঠাৎ রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি উধাও হয়ে যায়। ঘন মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার ৩০ সেকেন্ড পর আমাদের পাইলট প্রথম খেয়াল করেন, প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দেখা যাচ্ছে না।

এরপর আমাদের পাইলট বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকেন এবং হেলিকপ্টারটি খুঁজতে থাকেন।’
রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার রেডিও ডিভাইসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তা সফল হয়নি। এরপর তাদের হেলিকপ্টারটি উচ্চতা কমিয়ে আনে এবং পাশের একটি তামার খনিতে অবতরণ করে, এমনটাই জানান গোলাম হোসেইন ইসমাইলি।

ইসমাইলি আরো বলেন, ওই সময় ‘অদৃশ্য হয়ে যাওয়া’ হেলিকপ্টারে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদোল্লাহিয়ান ও প্রেসিডেন্ট রাইসির নিরাপত্তা ইউনিটের প্রধানকে বারবার কল করা হয়।

কিন্তু তাদের কারোরই সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্য দুটি হেলিকপ্টারের পাইলটরা প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারের পাইলট ক্যাপ্টেন মোস্তাফাভিকে কল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও জানান ইসমাইলি। ইসমাইলি বলেন, জটিল ওই পরিস্থিতিতে শুধু রাইসির হেলিকপ্টারে থাকা মোহাম্মদ আলী আল-হাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। তাঁর (আল-হাশেম) অবস্থা ভালো ছিল না। কিন্তু শুধু জানান, একটি উপত্যকায় তাদের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।

এরপর ইসমাইল আরেকবার আল-হাশেমকে কল করতে সক্ষম হন। তখনো একই কথা জানান। মোহাম্মদ আলী আল-হাশেম ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির মুখপাত্র।

গোলাম হোসেইন ইসমাইলি বলেন, আমরা যখন বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাই, সেখানে সবার মরদেহ দেখি। বুঝতে পারি, প্রেসিডেন্ট রাইসিসহ অন্য ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে শহীদ হয়েছেন। তবে একমাত্র আলে-হাশেম হয়তো ঘণ্টাখানেক বেঁচে ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট রাইসি গত রবিবার আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে যান। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন। সেখান থেকে তিনটি হেলিকপ্টারের বহর নিয়ে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফিরছিলেন রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদোল্লাহিয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা। পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে দুর্গম পাহাড়ে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী বেল-২১২ মডেলের হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির শেষকৃত্য গতকাল সকালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের তাবরিজে শুরু হয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল সাড়ে নয়টায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা। এতে অংশ নিতে শহরের রাস্তায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। এরপর রাইসিসহ বাকিদের মৃতদেহ তাবরিজ থেকে ইরানের কেন্দ্রীয় শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে রাইসি পড়াশোনা করেছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কোমে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাজধানী তেহরানে আনা হবে।

আজ বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে রাইসির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীতে রাইসির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ। এরপর রাইসির জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে বৃহস্পতিবার রাইসিকে দাফন করা হবে।

সূত্র : ইরনা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর