শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

শেখ হাসিনার বিচার চান কোটা আন্দোলনে নিহত সাগরের বাবা

অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪
  • ৮৩ টাইম ভিউ

ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে খুশি হয়েছেন কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত রাজবাড়ীর সাগর আহমেদের (২১) বাবা তোফাজ্জল হোসেন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের টাকাপোড়া গ্রামে সাগরের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এ দাবি জানান তোফাজ্জল হোসেন।

সাগর মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে গিয়ে গত ১৯ জুলাই মিরপুর গোলচত্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।

স্বজনরা জানায়, গত ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাগর বাবাকে ফোন করেন। সবার খোঁজখবর নিয়ে বিকাশে এক হাজার টাকা দিতে বলেন। স্থানীয় নারুয়া বাজারে গিয়ে আধাঘণ্টা বাদেই টাকা দেন বাবা তোফাজ্জল। পেয়েছেন কিনা নিশ্চিত হতে কল দেন; কিন্তু রিসিভ হয় না। কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ ঢাকায় যে গন্ডগোল চলছে জানেন তোফাজ্জল। দুপুর ১টার পর কল দিতেই থাকেন। মিনিট দশেক পর একবার রিসিভ হলে অপর প্রান্ত থেকে কেউ একজন বলেন সাগর পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। তোফাজ্জল নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আরও কয়েকবার কল দেন, রিসিভ হয় না। পরিচিত অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যতক্ষণে নির্মম সত্য জানলেন, ততক্ষণে সব শেষ!।

 

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মাঠে কাজ করা দেখে সাগর প্রায়ই বলত-বাবা, আর ক’টা দিন অপেক্ষা করো। তোমাকে আমি আর রোদে পুড়তে দেব না। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। কেউ কখনও এমন করে আর বলবে না। আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আমি মাঠে কাজ করে খাই। আমিও কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তখন ভয়ে কথা বলতে পারিনি। ছেলে হত্যার পর থেকেই আমি নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। আল্লাহ তুমি দেশবাসীকে এই জালিম সরকারের হাত থেকে রক্ষা করো। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনে আমি খুশি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমার দাবি, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হোক। কারণ তার নির্দেশেই আমার ছেলেসহ শত শত ছেলে-মেয়েকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অনেকেই আসছেন আমাকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য। আমার ছেলেকে ভালোবেসেই তারা আমার কাছে আসছেন। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই দেশবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ, আমার আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। আমাকে আর্থিক সহযোগিতা না দিয়ে সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। সম্ভব হলে আমার ছেলের নামে মসজিদ-মাদরাস নির্মাণ করবেন। যাতে পরকালে আমার ছেলে শান্তি পায়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর