শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ছে, মরিয়া ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালালে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয় শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ভুটানকে হারিয়ে সাফে শুভসূচনা বাংলাদেশের চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য আহত ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন দুই আন্তঃনগর ট্রেন, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর আইইইএফএর প্রতিবেদন : এলএনজিতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: শাকিল একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

৫০০কোটি টাকা নিয়ে উধাও পুষ্পধারার ডাইরেক্টর মাইনউদ্দিন

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৫৭ টাইম ভিউ

কথিত আবাসন কোম্পানি পুস্পধারা প্রোপার্টিজ এর ডাইরেক্টর মাইন উদ্দিন খান পুষ্পধারার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই টাকা আদায়ের দায় দায়িত্ব কার? এই টাকার দায়ভার কে নিবেন? শুধু তাই নয় প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেন নাম না জানা অনেক সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী যারা দূর থেকে এই অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। পুষ্পধারা স্বপ্ন পূরণের অঙ্গিকার দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু কি আদৌ সব স্বপ্ন কি সত্যি হয়? সব স্বপ্ন কি পূরণ হয়? কত স্বপ্নই তো ঝরে যায়।

পুষ্পধারা প্রপার্টিজ লিঃ ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করেন তখন তারা পদ্মাভ্যালি ও পদ্মা ইকোসিটি নামে দুইটি প্রকল্প চালু করেন শুরুতে যার আয়তন ছিলো মাত্র ১০০ শতাংশ, সেটাও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পত্তির উপরে দাঁড়িয়ে গড়ে উঠেন।

অথচ ১০০ শতাংশ জমির উপরে ভিত্তি করে তারা তিনটি সেক্টর করে যেখানে বিক্রি করেছেন প্লট,ফ্ল্যাট, ডুপ্লেক্স, ট্রিপ্লেক্স এবং কন্ডোমিনিয়াম করে। পদ্মা ইকো সিটি নামক প্রকল্পে বুকিং নেওয়া হচ্ছে ৩ কাঠা, ৪ কাঠা, ৫ কাঠা, ৬ কাঠা, ১০ কাঠা ও ০১ বিঘা আয়তনের প্লটের। পদ্মা ইকোসিটি নামে বিক্রি হয় ডুপ্লেক্স, ট্রিপ্লেক্স ভিলা কন্ডোমিনিয়ম বুকিং নেওয়া হয়।

প্রচার-প্রচারণার জন্য তারা ব্যবহার করেন রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কর্পোরেট অফিস, হেড অফিস, অনেক শাখা ও ব্রাঞ্চ অফিস। সেখানেই চলে তাদের বুকিং নেওয়ার কাজ স্বপ্নবাজ মানুষেরা যখন তাদের স্বপ্নপূরণে তাদের কাছে আসে তখনি প্রথম তারা তাদের বিপণন কর্মীদের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের গাড়িতে করে নিজ খরচে প্রজেক্ট ঘুরিয়ে নিয়ে এসেই নিজেদেরই তৈরি পাচঁ তারকা হোটেল রাজবাড়িতে রাজকীয় ভোজের আয়োজন করে। তারপরেই চলে গ্রাহকের পকেট খালি করার প্রক্রিয়া।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় পুষ্পধারা প্রোপার্টিজ লিঃ এর প্রধান যে গেইট তৈরি করেছেন সেই গেটই রয়েছে পাকিস্তান পিরিয়ডের রেকর্ডীয় খাস জমি এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে শোনা যায় প্রকল্পের অধিকাংশই সাইনবোর্ড ভাড়া করা।কেওয়াটখালী, ষোলঘর, আলমপুর এই তিনটি মৌজায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও গ্রাহকদের জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন বাড়ৈখালী মৌজা থেকে যার দূরত্ব প্রকল্প থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। এভাবেই সাধারণ মানুষ পুষ্পধারা থেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। ম্যানেজমেন্টের লোকজন সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে এ বিষয়ে কেউ বেশি কিছু জানতে চাইলে তখন তারা প্রশাসনিক ভয়-ভীতি ও রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে ও বড় বড় নেতার নাম বলে তাদের কর্মকান্ডকে চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে তাদের সাজানো কর্মকর্তা কর্মচারীর পরিচয় তারা নিজেরাই প্রতারণা করে। এতে করে একেক জন কর্মকর্তা গিয়েছেন কোটিপতি বনে অথচ ২০১৪ সালে খুব স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন। গ্রাহকের স্বপ্ন পূরণ করতে এসে তারা তাদের নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রতারণা করেছেন সাধারণ মানুষের সাথে। হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মূলত এর শেষ কোথায় সাধারণ মানুষ এখনো জানেন না। বিগত দিনে হাজারো কোম্পানি এমনভাবে সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে দেশান্তর হয়েছেন এবং বিদেশে গিয়ে স্বপ্ন পূরণ করেছেন সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে।

সবশেষে সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে তারা বলেন, এই ভয়াবহ প্রতারণা ও দুর্নীতির চক্র ভেঙ্গে একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যেন সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ ও আবাসনের স্বপ্ন ধ্বংস না হয় এবং ভুক্তভোগীরা ফিরে পান তাদের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক সুবিচার।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এর কাছে পুষ্পধারা প্রোপার্টিজ লিঃ এর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের প্রধান ফটকের কাজ চলমান ছিল আমরা তথ্য পেয়েছি সেখানে সরকারি জমি রয়েছে পরবর্তীতে এ্যাসিলেন্ড এর মাধ্যমে সেখানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ স্থগিত রাখতে বলা হয়। জমি জবরদখল ও সাইনবোর্ড ভাড়া করে ল্যান্ড বাণিজ্য করার বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে আমরা অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেব ও আইনের আওতায় আনবো।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর