শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই, বদলাচ্ছে বিমানের বহর ফ্রান্সে পুলিশের স্টান গ্রেনেডের আঘাতে শিক্ষার্থীর হাত উড়ে যাওয়ায় গ্রেনেড ব্যবহার স্থগিত ঢাকায় হত্যা করে মরদেহ এনে বসতভিটায় পুতে রাখার অভিযোগ; মূল আসামি গ্রেপ্তার বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে বাদ পড়লেন সালমান এফ রহমান রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একনেকে ১৩ প্রকল্পের অনুমোদন জাতিসংঘে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেলেন হেনরি কাগন ও কেনসো সোয়াই ঘরে ঘরে জন্মনিরোধক সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা করা হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

ডাক্তার তৈরি না করলে,কবিরাজ-ওঝার ওপরই নির্ভর করতে হবে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩
  • ১৯৯ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেস্ক : খুব বিতর্ক চলছে। ডাক্তারদের ধর্মঘট নিয়ে, রোগীর স্বজনদের সহনশীল হওয়া নিয়ে। আসলে বিতর্কের খুব সুযোগ আছে কি?

সবশেষ আশ্রস্থল হচ্ছেন ডাক্তার। তার ওপর ভরসা করতে না পারলে সবকিছু শূন্য মনে হবে। যার ওপর এতো নির্ভরতা তার কোনোভাবেই ধর্মঘটে যাওয়া উচিত নয়।

আর রোগীর স্বজন সাধারণত ডাক্তারদের কথাকেই মেনে নেন। যে দু-একটি ঘটনার ব্যত্যয় ঘটে তার পেছনেও থাকে করুণ ইতিহাস।

ডাক্তাররা সংঘবদ্ধ। একজনের বিপদে তারা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েন। রোগীর স্বজনদের সেই সাংগঠনিক ক্ষমতাটা নেই। তাই তারা নাজেহাল হন পদে পদে। তারপরও শেষ কথা বলে একটা কথা থাকতে হয়। যদি ডাক্তার তৈরি হতে না দিই তাহলে কবিরাজ-ওঝার ওপরই নির্ভর করতে হবে। যার যা দায়িত্ব তাকেই পালন করতে দেওয়া উচিত। কিন্তু আমরা কি তা দিই। প্রশাসনের অন্দরমহলেও তা নেই। প্রশাসনে না থাকলে অন্যত্র তা আমরা আশা করি কিভাবে?
সংবিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসনিক অংশ। সব প্রশাসনিক অংশের মালিক সরকার। সরকারের পক্ষে কাজ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রশাসনিক একাংশ জেলার প্রধানকে জেলা প্রশাসক বলা হয়। একজন কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ করা হয়। তার দপ্তর সরাসরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন। একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কে কোন জেলায় প্রশাসক এবং অন্যান্য পদে নিযুক্ত হবেন তা দেখা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাজ। এটা হলেই আইনের অনুশীলন হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধিযাচন পেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপযুক্ত কর্মকতাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করবে। এরপর দরকারি ব্রিফিং বা প্রশিক্ষণ শেষে জেলা নির্ধারণ করবে। কে কোন জেলার জেলা প্রশাসক হবে সেটা আগে থেকে কেউই জানবে না। একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মন্ত্রিপরিষদ নিয়োগ করবে, জনপ্রশাসন শুধু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করবে।

এই কর্তৃত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুশীলন না করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্তৃত্বকে খাটো করছে। অনেকে যুক্তি দেবেন, জনপ্রশাসনের মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রী আর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রী। তাই এক জায়গা থেকে হলেই হলো। এটি হলো সর্বনাশা যুক্তি। যদিও তা অনুশীলন করা হচ্ছে যুগের পর যুগ!

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিষ্ঠান উপজেলা, জেলা ও বিভাগ। এগুলো দেখভাল করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উইং, শাখা, অফিসার সবই আছে। কিন্তু সব নামকাওয়াস্তে।

গলদ আছে রূলস অব বিজনেসের অধীনে এলোকেশন অব বিজনেসেও। যেখানে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে। এটা করা হয়েছে প্রত্যেকের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে। যেন একজনের কর্তৃত্বে অন্য কেউ নাক গলিয়ে নোংরা তথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে।

কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এলোকেশন অব বিজনেস লক্ষ্য করলে দেখা যায় প্রশাসনিক একাংশ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগ উভয়েই দায়িত্ব নিয়েছে অর্থাৎ কেমন যেন কিছুটা এ, কিছুটা ও! প্রশাসনিক একাংশ রিপোর্ট করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। ছুটি, স্টেশন লিভ অনুমোদন দিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো বা স্থাপনা, বাজেট ও প্রশাসনিক বিষয় দেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়!

ফলে সংগত কারণেই অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা সুযোগ নেয়। তাদের যুক্তি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের হলে তো সব কিছু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনেই হতো। যেমন স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এ পদায়ন করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা ন্যস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে ন্যস্ত করা হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিযাচনে। অর্থাৎ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ন্যস্ত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে। তারপর ভূমি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনার অফিসে ন্যস্ত করে। বিভাগীয় কমিশনার বিভিন্ন উপজেলা ভূমি অফিসে পদায়ন করে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক হারিয়ে ফেলেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় সমন্বয় ও অন্যান্য কাজে গুরুত্ব হারিয়েছে।

অনেক জেলা প্রশাসক বলে থাকেন তাদের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার সব মিলিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান হয়েগেছে। এ থেকে বের করে এনে মন্ত্রিপরিষদের ওপর সব প্রশাসনিক, আর্থিক ও স্থাপনার মালিকানা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এসব প্রশাসনিক একাংশ বের না করায় দু নৌকায় পা দেওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় একজন কর্মকর্তার পক্ষে সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন যে সুখের হচ্ছে না সেটাও প্রমাণিত। কাজেই ওঝা তৈরির সুযোগ না দিয়ে যেমন ডাক্তার তৈরি করা উচিত। তেমনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের রশি টানাটানি না করে দক্ষ অফিসার তৈরিতে মন দেওয়া উচিত।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর