মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিউমার্কেটসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-ফুটপাত হকারমুক্ত হবে : সেতুমন্ত্রী মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স সরকারের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা, ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম ডিআরইউয়ের মিষ্টির শূন্য আসনে এলিজা জামানকে মনোনয়ন দিল বিএনপি কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, নিহত ১ শয়তানকে তুচ্ছজ্ঞান করুন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দুই বছরের মধ্যে জেলায় জেলায় বসবে রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন নিয়ে এলো বড় সুখবর আঞ্চলিক নিরাপত্তার আলোচনায় সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান

নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর বিষয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪৩ টাইম ভিউ
নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর বিষয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

জনপ্রিয় আলেম ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ‘প্রযুক্তির কাছে যেন হেরে না যায় আমাদের নামাজ!’ শিরোনামে নিজের আলোচনার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ওই আলোচনায় তিনি বলেছেন, স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অতি ব্যবহার কীভাবে আমাদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে দিচ্ছে, নামাজে মাত্র পাঁচ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতেও আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। শায়খ আহমাদুল্লাহর সেই বক্তব্যের শ্রুতিলিখন যুগান্তরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মনে না থাকার সমস্যা বা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার বিষয়টা এখন একটা বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এটা শুধু আপনার বা আমার সমস্যা নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের সমস্যা। আজকাল প্রায় প্রত্যেক মানুষকে দেখবেন যে কিছু মনে থাকে না, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।আমি একটা জিনিস খেয়াল করেছি, মাত্র দুই রাকাত নামাজ, যা তিন-চার মিনিটে পড়া সম্ভব, এমন কি দুই মিনিটেও পড়া যায়, এই দুই রাকাত নামাজে মনোযোগ শুধু আল্লাহর দিকে থাকে, অন্য কোথাও যায় না—এমন মানুষ হাজার হাজার মুসল্লির মধ্যে একজনও পাওয়া যায় না।

আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন, নফল নামাজ দুই রাকাত করে পড়ুন, দেখুন একবারও মন অন্যদিকে যায় কি না। খুব কঠিন হয়ে গেছে। গবেষকরা বলছেন মানুষের ফোকাস ধরে রাখার ক্ষমতা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। আগে মানুষ ৩০–৪০ সেকেন্ড বা এক মিনিট ফোকাস রাখতে পারতো, এখন তার অর্ধেকও নেই।

প্রশ্ন হলো, ১৫–২০ বছর আগেও তো এই সংকট এত প্রকট ছিল না, এখন কেন এমন হচ্ছে? চিন্তা করলে দেখা যায়, এর মূল কারণ আমাদের স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার। এগুলো আমাদের ফোকাস, মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

আমি নিজে এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমার একজন প্রোডাক্টিভিটি কোচ আমাকে প্রতিদিন শারীরিক ব্যায়াম করান, আরেকজন সপ্তাহে একদিন আমার কাজগুলো আরও প্রোডাক্টিভ করার জন্য গাইড করেন। আমি তাকে বললাম, আগে ২০০ পৃষ্ঠার বই পড়লে মুখস্থ হয়ে যেত, এখন একটা লাইনও মুখস্থ রাখতে পারি না। ডাক্তার দেখিয়েছি, কোনো সমস্যা ধরা পড়ে না। তখন তিনি আমাকে বললেন, সকাল থেকে আপনি কতগুলো ফেসবুক পোস্ট দেখেছেন? আমি বললাম, অগণিত। তিনি বললেন, এটাই সমস্যা। আপনি ব্রেনকে ট্রেইন করছেন মুখস্থ না রাখতে, শুধু সাময়িক আনন্দ বা দুঃখ পেতে।

ফেসবুক বা ইউটিউব স্ক্রল করতে করতে আমরা আসলে কিছুই মনে রাখি না। একটা পোস্ট বা কমেন্ট আগাগোড়া মনে করতে পারি না। এর মানে হলো আমাদের ব্রেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে মনোযোগ না রেখে অসংখ্য জিনিস পড়তে। ফলে কিছুই মনে থাকে না। আমি কয়েক মাস হলো মোবাইল থেকে ফেসবুক, ইউটিউব সব অ্যাপ মুছে ফেলেছি। অফিসে বা বাসায় কোনো পিসিতে নিউজফিডে ঢোকার সুযোগ নেই। আলহামদুলিল্লাহ, আমি এখন অনেক ভালো আছি। নামাজে মনোযোগ বাড়ছে, ফোকাস ফিরছে।

আমার ১৭–১৮ বছরের ছেলের কাছে এখনো কোনো স্মার্টফোন নেই, এবং তার কোনো আগ্রহও নেই। বাইরে গেলে যোগাযোগের জন্য শুধু একটি ছোট বাটন ফোন দেওয়া হয়েছে। আগে মানুষ ফোন ছাড়া বেঁচে ছিল, বিপদে পড়লে সমাধানও করতো। আজ আমরা শয়তানের প্ররোচনায় মনে করি ফোন ছাড়া জীবন অসম্ভব।

মনোযোগ বাড়ানোর জন্য আমাদের অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া এবং মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন, সোশ্যাল মিডিয়াকে আপনাকে ব্যবহার করার সুযোগ দেবেন না। অনেক সময় আমরা দাওয়াতের কাজের নাম দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্দেশ্যহীনভাবে স্ক্রল করি। এটা কখনও একজন মুসলমানের লাইফস্টাইল হতে পারে না।

আমি জানি এই স্রোতের বিপরীতে আমার কথাগুলো খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু আমি আমার দায়িত্ব পালন করলাম। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেবেন, তিনি হয়তো সিদ্ধান্ত নেবেন, তার জীবনকে আরও প্রোডাক্টিভ করবেন, বরকত দিয়ে পরিপূর্ণ করবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন।’

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর