শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিকাশ এজেন্ট কর্মীকে গুলি করে ৩ কোটি টাকা লুট, আহত ৩ ডিআইজি পরিচয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, ‘অতিরিক্ত ডিআইজি’ বরখাস্ত মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা ও চিকিৎসার ওপর জোর রাষ্ট্রপতির গঙ্গার পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে: জয়সোয়াল স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার আসামিকে আনা হয়েছে কুমিল্লায়, উদ্ধার মোবাইল ফোন এ বছর দুর্গার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন,ঘোড়ায় আগমন আর নৌকায় বিদায় সৌদির বিমানবন্দরে হামলা, ৩ নাগরিক নিহত অক্টোবরের ৯ দিনেই ডেঙ্গুতে অর্ধশত মৃত্যু চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী জামালপুরে সাংবাদিক ওসমান হারুনীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যমুনার সঙ্গে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি, ডুবে গেছে ১৫ বাড়িঘর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৩
  • ২০০ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেক্স : মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, করতোয়া, বড়াল ও হুড়া সাগর নদীর পানিও। এতে ভাঙ্গণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের অসহায় মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম ও আরকান্দির অন্তত ১৫ বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে ডুরে গেছে। এসব বাড়ি-ঘরের মানুষ চৌকি উচু করে কমলমতি শিশুদের নিয়ে অতিকষ্টে বসবাস করছে। এছাড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিচু গ্রামগুলি এখন বন্যার পানিতে ভাসছে। অনেক রাস্তাঘট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। একই সঙ্গে যমুনায় পানি বাড়ার ফলে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। তলিয়ে যেতে শুরু করেছে চরাঞ্চলের ফসলি জমিও।

রবিবার (২৭ আগষ্ট) সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা-১২ দশমিক ৯০ মিটার)। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৩৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা-১৪.৮০ মিটার)।

কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়া মুন্সী জানান, যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের নিম্নভূমি তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতেও পানি উঠতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন ধরে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের হাটবয়রা, ছোট কয়রা, দোগাছি ও কাওয়াকোলা গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এসব অঞ্চলের শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁন জানান, বন্যা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে তার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম ও আরকান্দি গ্রামে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। গত ২ মাসে অন্তত ২ শতাধিক বাড়িঘর যমুনায় বিলিন হয়ে গেছে। অসহায় জীবন যাপন করছে এসব ভাঙ্গণ কবলিত মানুষ। এছাড়া অন্তত ১৫ বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় এসব বাড়িঘরের মানুষ চৌকি উচু করে বসবাস করছে।

কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন জানান, যমুনার ভাঙ্গণে হাটপাচিল গ্রামের ৭০ ভাগ অংশ যমুনা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এ ভাঙ্গণে নিঃস্ব হয়ে গেছে এ গ্রামের ২ শতাধিক মানুষ। এদের অনেকে পলিথিনের ঝুপড়ি তুলে বাস করছে। তারা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিচু বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি উঠতে শুরু করায় চরাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদে সরে যেতে বলেছি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার জানান, উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টির কারণে যমুনায় পানি বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নভূমিগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। আরও দুই থেকে তিনদিন পানি বাড়লেও বড় বন্যার আশঙ্কা নেই।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর