শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কা, ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ ক্রীড়াঙ্গনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট: লেনদেনে সমস্যা নেই সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ করার নির্দেশ নেতানিয়াহুর আবার‍ও কক্সবাজারে হোটেলে আগুন ভূমিমন্ত্রী মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা আব্বাস হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি ১২১৪

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট: লেনদেনে সমস্যা নেই

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট: লেনদেনে সমস্যা নেই
ছবি-সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বহু প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ওয়েব পোর্টালটি বন্ধ থাকলেও দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ও আন্তঃব্যাংক লেনদেন পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পাবলিক ওয়েবসাইটে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রবেশ করতে পারছেন না। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত সাইটটিতে ঢুকতে গেলে একটি নোটিশ ভেসে উঠছে, যেখানে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় সেবাটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বৈশ্বিকভাবে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে ডাউন রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশেও কয়েকটি ব্যাংক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি দল নিরাপত্তা ত্রুটি যাচাইয়ে নিরবচ্ছিন্ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগে পোর্টাল চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা সম্ভব নয়। সেবা কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে ওয়েবসাইটে লেনদেনের গতি সামান্য ধীর থাকলেও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট কেবল সাধারণ তথ্য, নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। সাধারণ মানুষ, গবেষক ও ব্যাংকগুলো এখান থেকে বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও সার্কুলার সংগ্রহ করে থাকে। ফলে পোর্টাল বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছুটা অসুবিধা হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি প্রযুক্তিগত সংযোগ নেই।মানচিত্র দেখুন

এ বিষয়ে ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে তাদের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম বা গ্রাহক লেনদেনে কোনো সমস্যা হয়নি।

একই বক্তব্য তুলে ধরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে কেবল সার্বজনীন তথ্য থাকে, যার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন কাঠামোর কোনো সংযোগ নেই। তাই পোর্টাল বন্ধ রেখে পরীক্ষা চালানোর পদক্ষেপটি যৌক্তিক।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের চিফ ডিজিটাল অফিসার খালিদ হোসেন বিস্তারিত প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে জানান, ব্যাংকের মূল আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয় পৃথক কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে। ওরাকল, টিসিএস কিংবা ইনফোসিসের মতো আন্তর্জাতিক এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি এই সিস্টেমে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা থাকে এবং এতে পিএইচপি ব্যবহার করা হয় না। তিনি জানান, ওয়েবসাইট হ্যাক করে কেউ তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃত করতে পারলেও কোর ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকদের অর্থ বা গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তারা নিজস্ব চার-পাঁচটি ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদ করে পুনরায় চালু করেছেন।

বিশ্বব্যাপী ওয়েবসাইটের নেপথ্য প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি অত্যন্ত গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়। পিএইচপি বা ‘হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর’ ব্যবহার করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়ার্ডপ্রেসের কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট কাঠামো পরিচালিত হয়।

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা উইজ ও ওপেনএআই-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই দুর্বলতা চিহ্নিত করার পর হ্যাকাররা সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। এর ফলে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ডের সরকারি ওয়েবসাইট, স্কটল্যান্ডের স্বাস্থ্য বোর্ড এবং বিবিসি ও উইকিপিডিয়ার মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের বেশ কিছু সিস্টেম ও পেজ অফলাইনে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশেও সরকারি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট বৃহস্পতিবার এক সতর্কতা জারি করে পিএইচপি ব্যবহারকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ব্যাংকগুলোকে বুধবার দুপুর থেকেই এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত ঝুঁকি পর্যালোচনা ও ব্যাকআপ সংরক্ষণের পরিপত্র জারি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রমণ প্রতিহত করার প্রাথমিক কৌশলই হলো ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভার অফলাইনে নিয়ে যাওয়া। নিরাপত্তা ত্রুটির বিশ্লেষণ ও প্যাচ ইনস্টল সম্পন্ন হলেই পুনরায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য প্রকাশনা ব্যবস্থা উন্মুক্ত করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর