কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী নির্বাচনে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘গাদ্দারি’র অভিযোগ তুলে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান।
মেহেদী আহমেদ রুমী দাবি করেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতাম। কিন্তু প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে প্রায় ৫ হাজার ভোটে হারিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনসহ কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে তার অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ভোট পুনর্গণনার দাবিতে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে এবং আগামী ২৪ জুন শুনানির তারিখ নির্ধারিত আছে। তার আশা, পুনর্গণনায় ফলাফল পরিবর্তিত হবে।
বক্তব্যে তিনি নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রায় ছয় দশক ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি এবং মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন। তবে স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। এ আসনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীনসহ অন্যান্যরা।