শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদরাসায় বলাৎকারের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী রবিবার আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ জামায়াতের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট নিয়ে বিআরটিএর জরুরি নির্দেশনা মমেক হাসপাতালে অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দ্রুত তদন্তের নির্দেশ চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই আসছে নতুন আইন : আইজিপি ভারতের প্রধান ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় সাইবার হামলা নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কা, ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ

বাংলাদেশে এলো আন্তর্জাতিকমানের স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগুন নেভানোর ‘ফায়ারপাস’ প্রযুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ২১৮ টাইম ভিউ

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর তথ্য মতে, ২০২৩ সালে সারা দেশে মোট ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৭৭টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে সারা দেশে মোট ২৮১ জন আহত এবং ১০২ জন নিহত হয়েছেন। সারা দেশে এই অগ্নিকাণ্ডে ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

পরের বছর ২০২৪ সালে সারাদেশে ২৬ হাজার ৬৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশে এই অগ্নিকাণ্ডে ৪৪৬ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৭ টাকা সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। দেশে আগুন নেভানোর প্রচলিত অনেক পদ্ধতি রয়েছে তবে এসব পদ্ধতিতে ছাপিয়ে আর্ন্তজাতিক মানের স্বয়ংক্রিয় আগুন নেভানোর পদ্ধতি দেশের বাজারে এনেছে স্মার্টডেটা নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানের বলছে, এটি এমনই এক প্রযুক্তি যার ব্যবহার করলে কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আগুন ধরবে না, ধরলেও স্বয়ক্রিয়ভাবে মুহূর্তেই নিভিয়ে দেবে এই প্রযুক্তি। মূলত এই প্রযুক্তির নাম ‘ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড সাপ্রেশন সিস্টেম’, যার আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠানের নাম ফায়ারপাস টেকনোলজি। প্রযুক্তির উদ্ভাবক রাশিয়ান বিজ্ঞানী ‘ইগর গেরি’।

এই প্রযুক্তিতে একটি হাইপক্সিক জেনারেটরের সাথে যে জায়গা ফায়ার প্রোটেকটিভ করা হবে তার একটি কানেকশন তৈরি করা হয়। তারপর বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় একটি অক্সিজেন অ্যানালাইজারে মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হয়। পদ্ধতিটি কোনো স্থানে আগুন লাগলে অক্সিজেনের মাত্রাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যা আগুন জ্বলতে বাধাগ্রস্ত হয়। ব্যবহারকারী চাইলে এই প্রযুক্তিটি দূরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

ফায়ারপাস সিস্টেমের কিছু বৈশিষ্ট্য: 

স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ এবং নেভানো: আগুন লাগলে এটি নিজে থেকেই সনাক্ত করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেভানোর ব্যবস্থা করে।

দ্রুত এবং কার্যকর: এটি খুব দ্রুত আগুন নেভাতে পারে, যা ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

কম রক্ষণাবেক্ষণ: এই সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে কম।

এ বিষয়ে ফায়ারপাসের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কনসালটেন্ট মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফায়ারপাস অগ্নি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এটি এমন ব্যবস্থা যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশে কমিয়ে, একটি হাইপোক্সিক বায়ুমণ্ডল তৈরি করে যা মানুষের জন্য নিরাপদ থাকে কিন্তু সম্পূর্ণরূপে দহন রোধ করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য ফায়ারপাস গুণগত মান ঠিক রেখে সাশ্রয়ী মুল্যে বিভিন্ন ডিজাইনের মডেল অফার করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ারপাস টেকনোলজির উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি ডেটা সেন্টার, মিউজিয়াম, আর্কাইভ, সাবস্টেশন, ওয়্যারহাউস, বড় বিল্ডিং, টানেল অ্যারোস্পেস, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট সহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহারযোগ্য।

এ বিষয়ে স্মার্টডাটার সিনিয়র টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শিমুল পারভেজ বলেন, যেকোনো সিলড (বদ্ধ) রুমে অক্সিজেনকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যাতে কেমিক্যাল রিয়েশন না হয়, ফলশ্রুতিতে কোথাও ওই জায়গায় আগুন লাগবে না।

ডেটা সেন্টার সল্যুণের ম্যানেজার (সেলস) ইসহাক ইবনে খান জুয়েল বলেন, এই প্রযুক্তিটি একটি প্রোঅ্যাক্টিভ প্রযুক্তি। এই পদ্ধতি প্রয়োগকৃত জায়গায় আগুন লাগতেই দেবে না। কেউ যদি বাইরে থেকে আগুন জ্বালানোর জন্য ভেতরে নিয়ে যায়, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিভে যাবে।

তিনি বলেন, প্রচলিত আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে (সাপ্রেশন সিস্টেমে) অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা বিভিন্নভাবে ক্ষতিকর এবং পুনর্ব্যবহারের খরচ অনেক। কিন্তু ফায়ারপাসের এই পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহারের কোনো খরচ নেই, একবার প্রযুক্তিটি কোথাও স্থাপন ব্যবহারকারী যতদিন চাইবে, ততদিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্মার্টডাটার বিজনেস কনসালট্যান্ট ফরিদ উদ্দিন বলেন, ফায়ার পাসের এই প্রযুক্তিতে কোথাও আগুন লাগবে ২-৩ সেকেন্ডের মধ্যেই নিভিয়ে দেবে। যেহেতু এই প্রযুক্তি বাতাসের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম তৈরি করে আগুন নেভায়, তাই এর প্রযুক্তির ব্যবহার আনলিমিটেড। অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তিটি ১৬তম এশিয়াফার্মা এক্সপোতে প্রদর্শন করা হয়। ফায়ার প্রিভেনশন এই সিস্টেমটি ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আবিষ্কৃত হয়। পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ দক্ষিণ আফ্রিকা ও সৌদি আরবে ব্যবহার করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর