দীর্ঘদিনের সাধনা, গবেষণা ও নিরলস পরিশ্রমের পর অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে তরুণ ফন্ট ডিজাইনার সাইদুর রহমান আসিকের প্রথম বাংলা টাইপফেস ‘ইনকিলাব’। বাংলা ভাষা, টাইপোগ্রাফি ও অক্ষরশিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তার এই সৃজনশীল যাত্রার সূচনা।
ফন্ট ডিজাইনের প্রযুক্তি, গঠনশৈলী ও নান্দনিকতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও কাজ করেছেন আসিক। তার মতে, একটি ফন্ট শুধু কিছু অক্ষরের সমষ্টি নয়; বরং এটি এমন এক ধরনের শিল্প, যার মাধ্যমে ভাষার সৌন্দর্য ও অভিব্যক্তিকে দৃশ্যমান করে তোলা যায়। নিজের প্রথম টাইপফেস ‘ইনকিলাব’ নিয়েও তিনি বেশ আশাবাদী।
ফন্টটি তৈরির দীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে সাইদুর রহমান আসিক বলেন, একটি মানসম্মত বাংলা ফন্ট তৈরি করতে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, সূক্ষ্ম কারিগরি কাজ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময়ের ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। এই যাত্রায় বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তিনি তৌহিদুল ইসলাম হিমেলের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমার এই ফন্ট তৈরির পুরো পথচলায় তৌহিদুল ইসলাম হিমেল আমাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা ছাড়া এই কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হতো।”
সংগ্রামী মানুষের প্রতি উৎসর্গ
‘ইনকিলাব’ উৎসর্গ করা হয়েছে সব সংগ্রামী মানুষের প্রতি, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি এবং পরিবর্তনের জন্য দাঁড়িয়েছেন। ফন্টটির নামের মধ্যেও সেই সংগ্রাম, প্রত্যয় ও পরিবর্তনের চেতনাকে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘ইনকিলাব’ একটি multilingual Bangla typeface। এতে রয়েছে মোট ছয়টি স্টাইল। প্রতিটি স্টাইলেই বাংলা ও ইংরেজি character set রাখা হয়েছে। ফলে একই টাইপফেস ব্যবহার করে বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের multilingual design তৈরি করা সম্ভব হবে।
যেভাবে পাওয়া যাবে ‘ইনকিলাব’
সাইদুর রহমান আসিক জানিয়েছেন, তার প্রথম টাইপফেস ‘ইনকিলাব’ প্রকাশিত হয়েছে Bengal Fonts-এর ওয়েবসাইটে। আগ্রহী ব্যবহারকারীরা সেখান থেকে ফন্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এর ছয়টি স্টাইলই ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ফন্ট ডিজাইনের জগতে নিজের প্রথম পদক্ষেপ সম্পর্কে আসিক বলেন, “এটি আমার প্রথম কাজ, তবে আমি এখানেই থেমে থাকছি না। আরও নতুন নতুন ফন্ট নিয়ে কাজ করছি, যা খুব শিগগিরই প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
বাংলা টাইপোগ্রাফিতে নিজের প্রথম কাজ দিয়েই নতুন সম্ভাবনার যাত্রা শুরু করেছেন সাইদুর রহমান আসিক। ‘ইনকিলাব’-এর মাধ্যমে বাংলা অক্ষরকে নতুনভাবে দেখার ও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তার পরবর্তী টাইপফেস নিয়েও বাংলা ডিজাইন কমিউনিটিতে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।