সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপর ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প ড্রোন হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার আরো ৪০ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, অর্ধেকে নেমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পাঁচ পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা সিটি নির্বাচন: এনসিপির প্রার্থী উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যূত, ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল বন্ধ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপর ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ টাইম ভিউ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপর ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প
ছবি-সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানের জন্য আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কার্যত একটি সময়সীমা হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই, এবং এমনকি নির্বাচনের আগেই যুদ্ধের অবসান হতে পারে।তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদী পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলছে না তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা— মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করে যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রোববার আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ শেষের সময়সীমা হিসেবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন।ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ এ বছরের মধ্যেই শেষ হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তার আগেও সমঝোতা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সঠিক চুক্তি’ হতে হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বরও ট্রাম্প বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। তার দাবি ছিল, ইরান আর বেশি দিন মার্কিন চাপ সহ্য করতে পারবে না এবং দেশটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স ও রুবিওসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে ইরান সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্তও গড়াতে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলার সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

ইরানের ওপর নৌ অবরোধ, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরান প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে— এটাই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগের মূল জায়গা।

ভ্যান্স প্রকাশ্যেও যুদ্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য, ইরান যখন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও সময়সূচি প্রকাশ করা দায়িত্বশীল হবে না। হোয়াইট হাউজও বলেছে, যুদ্ধ কখন শেষ হবে সে সিদ্ধান্ত কেবল ট্রাম্পই জানেন।যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিতও মিলছে মার্কিন সামরিক তৎপরতায়। মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের মোতায়াতের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে এবং নতুন করে মেরিন ইউনিট পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্য আটলান্টিকের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অবস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে।

এর মধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সংকট এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রোববার ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত কমে আসবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধের পর ইরানে মার্কিন উপস্থিতি বজায় রেখে দেশটির তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।ফলে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুটি পরস্পরবিরোধী ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তির কাছাকাছি সময় হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে তার নিজের প্রশাসনেরই শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন এক সংঘাতের জন্য, যার শেষ দেখতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এই পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি ও এর রাজনৈতিক হিসাবের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর