শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন

লিসবনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বন্ধ কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ
লিসবনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: বন্ধ কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়
ছবি-সংগৃহীত

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে আন্তোনিও অ্যারোই স্কুল অব দ্য আর্টসের প্রবেশদ্বার অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান কয়েকজন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নিজেদের দাবি ও উদ্বেগ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীদের বার্তা, ‘এবার আমাদের পালা।’ একই সময়ে কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিকে ঘিরে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই লিসবনের আন্তোনিও অ্যারোই স্কুল অব দ্য আর্টসের প্রবেশদ্বারে অবস্থান নেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নিজেদের উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানানোই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, শুধু শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করলেই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয় না। তরুণদের সামনে কী ধরনের পৃথিবী অপেক্ষা করছে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হবে সরকারকে। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, এখন তাঁদের পালা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে সরকারকে নিজেদের কথা শোনানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ উঠে এসেছে আরেক প্রতিবাদকারীর বক্তব্যেও। তিনি বলেন, “তারা আমাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে না।” শিক্ষার্থীদের এ বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়েছে।

পর্তুগালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবি আগেও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে লিসবনের আন্তোনিও অ্যারোই স্কুল অব দ্য আর্টস এবং কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ হয়েছিল।

সেই আন্দোলনে ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আন্দোলনকারীদের মতে, বর্তমান নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর।

তবে শুক্রবারের কর্মসূচির সঙ্গে আগের আন্দোলনের দাবিগুলোর পুরোপুরি মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, লিসবনের কামোঁস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও প্রতিবাদের কারণে বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয়টি ঠিক কতক্ষণ বন্ধ ছিল, কতজন শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের সুযোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

শিক্ষার্থীদের এ প্রতিবাদ সরকারের কাছে তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বার অবরোধের মতো কর্মসূচি স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকার এ প্রতিবাদের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর