মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ চান এলজিআরডি মন্ত্রী আসিফ নজরুলের নির্দেশেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগ আমলে ৬০ লাখের বেশি মিথ্যা মামলা হয়েছে : আইনমন্ত্রী সাত বছর পর মুক্ত আকাশ দেখল কারাগারে জন্ম নেওয়া শিশু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ২৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি তরুণদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলায় মহাখালী টিএন্ডটি আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩
  • ২২৭ টাইম ভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিএন্ডটি আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যর্থ বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরা। অভিভাবকরা অভিযোগ করেন বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চরম বিশৃঙ্খলায় পরিচালিত হচ্ছে। শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই! নোট, সাজেশন দেওয়াসহ নানা অজুহাতে ক্লাসের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। এছাড়া শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে কোচিং করতে এক প্রকারের বাধ্য করেন। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্কুল ছুটির সময় চরম বিশৃঙ্খলার জন্য প্রতিদিনই অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী গত বছর যোগদান করেন। তিনি আসার পর থেকে শুধু সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু তার কথায় কাজে মিল নেই। তার অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে চরম অনিয়মের মধ্যে। অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গাও রাখা হয়নি। নিন্মমানের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের। অথচ এই অনুষ্ঠানের টাকা কিন্তু ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই আদায় করা হয়েছে। অন্যবছর এতো সাধারণ অনুষ্ঠান উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, ডায়রি, মনোগ্রাম, ক্যালেন্ডার আইডি কার্ড ফি খাতে টাকা নেয়া হয়েছে ডিসেম্বর মাসের শেষে ভর্তির সময়। শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়ার কথা বছরের শুরুতে। কিন্তু এপ্রিল মাসে ডায়রি ও ক্যালেন্ডার প্রদান করলেও মনোগ্রাম ও আইডি কার্ড এখনো প্রদান করা হয়নি। অভিভাবকদের সামান্যতম অধিকার বিদ্যালয়টিতে নেই।

অভিভাবকরা আরও জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি অভিভাবকদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়না। অভিভাবক প্রতিনিধি বানানো হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিলেকশনের মাধ্যমে। বর্তমান অভিভাবক প্রতিনিধির সভাপতিও সিলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। স্কুলের উন্নয়ন ও অভিভাবকদের সমস্যা সমাধানে সভাপতির ভূমিকা নেই বললেই চলে।

বিদ্যালয়ের গেইটে কথা হয় সন্তানকে নিতে আসা এক অভিভাবকের সাথে। তিনি বলেন ‘আমরাও এই স্কুলে পড়েছি কিন্তু আমাদের সময়ের শৃঙ্খলা এখন আর নেই। এক মাস শেষ না হতেই পরের মাসের অগ্রিম বেতন দেওয়ার জন্য বাচ্চাদের চাপ দেয় শ্রেণি শিক্ষকরা। এছাড়া প্রতিমাসে শ্রেণি পরীক্ষার নাম করে কৌশলে চাপ দিয়ে ফিস ও বেতন আদায় করা হয়। বেতন না দিলে পরীক্ষা দিতে দিবে না এই ভয়ে অভিভাবকরা বেতন দিতে বাধ্য হয়।’

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান যারা লেখাপড়া করে তাঁরা ক্লাসে পড়ালেখায় ভালো না হলেও পরীক্ষায় তাদের ফলাফল ভালো হয়। তাঁরা নাকি পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেয়ে যায়। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে। শিক্ষকদের সন্তানরা পরীক্ষার রেজাল্ট কার্ড পাওয়ার পর অন্য সহপাঠীদের বা অভিভাবকের দেখাতে চায় না। এড়িয়ে যায়। এছাড়া শিক্ষকরা ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পড়ান না। হোম ওয়ার্ক দিয়ে অভিভাবকদের উপর চাপিয়ে দেন। যে কারণে এবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল খুব খারাপ হয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীদের। প্রায়ই স্কুল বন্ধ রাখা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ভাড়া দেওয়ার কারণে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ২০১৮ সালে টিএন্ডটি আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তখন অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে সেই প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর