শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা ফের যাচ্ছে সরকারের হাতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ৩০ দিনের জন্য গণপরিবহন ভাড়া ফ্রি ঘোষণা চাইলে যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই হরমুজ প্রণালি চালু করতে পারবে: ট্রাম্প দেশে ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা: জাপানের সাথে বৈঠক হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি জ্বালানির তেলের দাম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা ভাবছে সরকার মেয়ে জাইমাকে নিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখতে সিনেমা হলে প্রধানমন্ত্রী সব চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল দোকান-বিপণি বিতান ১১টা-৮টা খোলা রাখতে চায় মালিক সমিতি অধ্যাদেশ বাতিল-স্থগিতের সুপারিশে ক্ষুব্ধ ও হতাশ টিআইবি

অধ্যাদেশ বাতিল-স্থগিতের সুপারিশে ক্ষুব্ধ ও হতাশ টিআইবি

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ টাইম ভিউ
অধ্যাদেশ বাতিল-স্থগিতের সুপারিশে ক্ষুব্ধ ও হতাশ টিআইবি

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় বিষয়ে দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ‘যাচাই-বাছাইয়ের নামে’ স্থগিতের সুপারিশে ‘ক্ষুব্ধ ও হতাশ’ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে অধ্যাদেশ তিনটি হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও তথ্য অধিকারবিষয়কসহ ‘স্থগিতের সুপারিশপ্রাপ্ত’ বাকি অধ্যাদেশগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে যাচাই-বাছাই করে অবিলম্বে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে গুটিকয়েক ক্ষেত্রে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছিল, তার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অন্যতম। এই তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিতের মাধ্যমে সরকার আসলে কী বার্তা দিতে চায়? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, বিচারব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক সচিবালয়কে আরো শক্তিশালী করা হবে’ মর্মে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, এই কী তার নমুনা? না নি পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনরায়কে প্রভাবিত করার অংশ হিসেবে ক্ষমতাসীন দল শুধুমাত্র কথার কথা হিসেবেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অঙ্গীকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছিল! বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ কতটা কলুষিত ও বিরুদ্ধ মত দমনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, তা এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সরকার ভুলে গেল! যা খুবই হতাশাজনক।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন হওয়ার যে সমূহ সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল, এ ক্ষেত্রে অধ্যাদেশটি স্থগিত হওয়ার ফলে উদ্বেগজনক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিধানের অভাবে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে, তা ক্ষমতাসীন দলের প্রধানসহ কর্তা-ব্যক্তিদের বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়!

সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের জন্য এ অবস্থান ‘আত্মঘাতীমূলক’ মন্তব্য করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কারণ তারা প্রায় সকলেই উক্ত ক্ষেত্রগুলোতে আইনগত দুর্বলতা, বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশনের মতো সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকরতার ফলে বহুমাত্রিক অধিকার হরণের ভুক্তভোগী। যদি তারা কর্তৃত্ববাদ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন, তবে অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল আকারে অবিলম্বে সংসদে অনুমোদনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশবাসীকে তার প্রমাণ দেওয়া উচিত।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় গুম খুনের শিকার হওয়া একটি দলের সরকার কীভাবে গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশকেও কোন যৌক্তিকতায় এবং কাদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে অধিকতর যাচাই বাছাইয়ের ফাঁদে ফেলে দিল? আইনে কোনো অর্ন্তনিহিত দুর্বলতা থাকলে সেটি অবশ্যই দূর করা যেতে পারে। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের নামে গুম খুনের সাথে জড়িত পক্ষগুলোকে সুবিধা বা দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা বা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের অনুমতির নামে কিংবা ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ অজুহাত তুলে এটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়, তা শুধু আত্মঘাতীই হবে না বরং দেশে কার্যকর মানাবাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে পেছনে হাঁটার শামিল।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করেছিলেন ইফতেখারুজ্জামান। দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশের কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দুদক সংস্কার কমিশনের যে সকল সুপারিশের ক্ষেত্রে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের সম্মতিসহ জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং জুলাই সনদের বাইরে দুদক সংস্কার কমিশনের যে সকল প্রস্তাবে বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছে, সেগুলোর আলোকে দুদক অধ্যাদেশটি সংশোধন করে অবিলম্বে বিল আকারে সংসদে চলতি সংসদে উত্থাপনের আহ্বান জানাই। এ ক্ষেত্রে দুদকের পরিপূর্ণ স্বাধীনতার লক্ষ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ‘একটি স্বাধীন বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ সৃষ্টির বিধান, যে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হওয়া সত্ত্বেও অধ্যাদেশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পুলিশকে একটি জনবান্ধব ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠন প্রয়োজন তার কোনো প্রতিফলনই অধ্যাদেশটিতে হয়নি। যা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাবিত বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

একইসঙ্গে অবিলম্বে দলনিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে দায়িত্বপালনে সক্ষম এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের উদ্যোগসহ তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, তথ্যের সংজ্ঞা, কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি, কমিশনারদের নিয়োগ, পদমর্যাদা, মেয়াদ প্রভৃতি বিষয় সংশোধন সাপেক্ষে সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ২০টিকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে এ বিষয়ে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

আর ৯৮টি অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন না এনে হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করে গত বৃহস্পতিবার সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখনই যে ২০টি অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা হবে না সেগুলোর মধ্যে চারটি বাতিল ও হেফাজতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর