রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহাসিক শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে ওরশ চলাকালে হামলার ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় শাহআলী থানায় মাজারের ভক্ত রেশমি বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন— আরমান, রাসেল ও আজম। শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, হামলায় আহত রেশমি বেগমের করা মামলার ভিত্তিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা এজাহারভুক্ত আসামি কি না কিংবা তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য কি না— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি ওসি। যদিও মামলায় উল্লেখ করা ৯ জনের তালিকায় রাসেল ও আজম নামে দুজনের নাম রয়েছে। মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন— মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) এবং কাজী পনির (৫০)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওরশ উপলক্ষে মাজারে জিয়ারত ও মানতের সময় অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা হাতে মাজারে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা “আল্লাহু আকবার” স্লোগান দিয়ে প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের মারধর করে, মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় বাঁধা লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেট ভাঙচুর করে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেশমি বেগম আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং তার কাপড়চোপড় টানাহেঁচড়া করে যৌন নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে মাজারে মানতের খিচুড়ি রান্নার চুলা ও পাতিল ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। মামলায় আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বাদীর কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে মোট প্রায় ৯০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। হামলার শিকার কয়েকজন জিয়ারতকারী দাবি করেছেন, হামলাকারীরা ‘জামায়াত-শিবিরের’ লোক। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এ ঘটনাকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া সহিংসতার ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বহু বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা শাহ আলী বোগদাদী (রহ.)-এর ওরশে এমন হামলার ঘটনা নজিরবিহীন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।