হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে একসঙ্গে ৩৭ হাজার মানুষ উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। রোববার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এই পরিসেবা উদ্বোধন করেন।
বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। এর আওতায় রয়েছে টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, ডোমেস্টিক টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা। এই বিস্তৃত কভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিতে পারবেন।
সেবাটির জন্য আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট ,৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল স্থাপন, এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ। এই শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ও স্থিতিশীল ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। সে অনুযায়ী ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট ব্যবহার করে একই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন ব্যবহারকারী ইন্টারনেট সংযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।
সম্পূর্ণ সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা পুরো কভারেজ এলাকাজুড়ে দ্রুতগতির ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গত ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার পর প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই সেবা ব্যবহার করেছেন। এ সময়ে মোট প্রায় ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করা দেশি-বিদেশি যাত্রীদের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ ও ইন্টারনেট সংযোগের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগ এবং অনলাইন কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুততর হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত “সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট” প্রতিশ্রুতির আলোকে বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা দিয়েছে।
একসঙ্গে ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী এই ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে সক্ষম হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এ সময় ডাক টেলিযোগাযোগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।