সময়ের আওয়াজ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরা জসিমউদ্দীন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজু ও সাকিবকে অশ্রুসিক্ত পরিবেশে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। তাদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় স্বজনদের পাশাপাশি উপস্থিত অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
নিহত রবিউল ইসলাম রাজু জাতীয় দৈনিক ‘আমার প্রাণের বাংলাদেশ’-এর প্রধান প্রতিবেদক এবং সাকিব ‘দিগন্ত সংবাদ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে রবিউল ইসলাম রাজু নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল, আন্তরিক এবং নির্ভরযোগ্য একজন সংবাদকর্মী। রবিউল ইসলাম রাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ‘আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, জরুরি কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় তিনি ওই সময় রাজুর সঙ্গে থাকতে পারেননি। একজন বিশ্বস্ত সহকর্মীকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জানা গেছে, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ম্যাচ উপভোগ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন রাজু ও সাকিব। পথে রাজধানীর উত্তরা জসিমউদ্দীন এলাকায় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং স্বজনরা হাসপাতালে ও পরে জানাজায় উপস্থিত হন। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বানও জানান তারা। সহকর্মীদের ভাষ্য, রবিউল ইসলাম রাজু ও সাকিব ছিলেন সাহসী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মী। তাদের এই অকাল প্রস্থান দেশের গণমাধ্যমের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে।