বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবল গণপ্রতিরোধের মুখে চব্বিশের ৫ আগস্ট হাসিনার স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয় বাংলাদেশ আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না: মির্জা ফখরুল জবিতে সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালেও হামলার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ আল-জাজিরা পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় জামায়াত কর্মী আটক শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই: রণধীর জয়সোয়াল গোয়ালন্দে বিদায়ী ইউএনও’র বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ সরকারের ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে যুবকের মৃত্যুতে পরিবার কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে না, হাইকোর্টের রুল

হারানো জৌলুস ফিরে পাবে কি বিএফডিসি? নতুন স্বপ্নে জাগার অপেক্ষায় চলচ্চিত্রের প্রাণকেন্দ্র

এস.এ.এম সুমন | বিশেষ প্রতিবেদন :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ টাইম ভিউ
এস.এ.এম সুমন | বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি আবেগ, একটি ঐতিহ্য এবং অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার জন্মস্থান। যে প্রাঙ্গণ একসময় আলো, ক্যামেরা, অ্যাকশনের কোলাহলে মুখর থাকত, আজ সেখানে অনেকটাই নীরবতা। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের পদচারণা, একাধিক সিনেমার শুটিং এবং ব্যস্ত স্টুডিওর সেই চেনা দৃশ্য এখন অনেকটাই অতীতের স্মৃতি হয়ে গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—আবার কি জেগে উঠবে বিএফডিসি?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৫৭ সালে ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন আইন প্রণয়ন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। শুটিং ফ্লোর, ডাবিং, সম্পাদনা, ল্যাব, ক্যামেরা ও আলোকসজ্জাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রায় সব ধরনের সুবিধাই এখানে একসময় বিদ্যমান ছিল।

আশি ও নব্বইয়ের দশককে বিএফডিসির স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিদিন একাধিক সিনেমার শুটিং চলত, নতুন নতুন গল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন পরিচালক-প্রযোজকরা। রাজ্জাক, কবরী, শাবানা, ববিতা, আলমগীর, সুচন্দা, জসীম, ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, সালমান শাহসহ অসংখ্য কিংবদন্তি শিল্পীর অভিনয়ে নির্মিত বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের জন্ম হয়েছে এই প্রাঙ্গণে। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে পরিচিত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিএফডিসি।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পেও এসেছে নানা চ্যালেঞ্জ। সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান, পাইরেসি, বিনিয়োগ সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি এবং পরিকল্পনার অভাবের কারণে চলচ্চিত্র নির্মাণের গতি অনেকটাই কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিএফডিসির কার্যক্রমেও। একসময় যেখানে প্রতিদিন নতুন সিনেমার শুটিং হতো, এখন সেখানে তুলনামূলকভাবে সীমিত কার্যক্রম চোখে পড়ে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন, শুধুমাত্র অবকাঠামো থাকলেই একটি চলচ্চিত্র শিল্প এগিয়ে যেতে পারে না। প্রয়োজন দক্ষ নির্মাতা, মানসম্মত গল্প, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনা পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে বিদেশি যৌথ প্রযোজনা এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্যও বিএফডিসি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

ইতোমধ্যে সরকার বিএফডিসির আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন প্রযুক্তি সংযোজন, আধুনিক স্টুডিও নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ সফল হলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প আবারও নতুন গতি পাবে।

বিএফডিসি কেবল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতার অন্যতম প্রতীক। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, নতুন প্রজন্মের নির্মাতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সৃজনশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই প্রতিষ্ঠান আবারও দেশের চলচ্চিত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ফিরে আসতে পারে। কোটি সিনেমাপ্রেমীর প্রত্যাশা, হারানো সেই সোনালি দিন আবারও ফিরুক, আর বিএফডিসি হয়ে উঠুক নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর