রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশ হেফাজতে এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩ পুনর্বিবাহ না করলে আজীবন পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী, বিপত্নীক স্বামী সিগারেট-ওষুধসহ ১১ খাতে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক যত দ্রুত সম্ভব সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যা: আদালতে ৩ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হচ্ছেন চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২

পুনর্বিবাহ না করলে আজীবন পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী, বিপত্নীক স্বামী

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ টাইম ভিউ
পুনর্বিবাহ না করলে আজীবন পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী, বিপত্নীক স্বামী
ছবি-সংগৃহীত

পেনশনভোগী সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীর পারিবারিক পেনশন পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে বিধান রাখা হয়েছে। পুনর্বিবাহ না করার শর্তে তারা আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য থাকবেন। অবসরকালীন সুবিধা প্রাপ্ততা পুনর্নিধারণ সংক্রান্ত সরকারি গেজেটে কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন প্রাপ্যতা নির্ধারণ, পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে এসব বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। গেজেটটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গেজেটটি হাতে পাওয়া গেছে। তবে গেজেটের গায়ে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) লেখা রয়েছে।গেজেট অনুযায়ী, কোনো পেনশনভোগী সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হলে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য থাকবেন।

পারিবারিক পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে পুনর্বিবাহ না করার বিষয়টি প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন বা সনদ দাখিলের বিধানও রয়েছে। বিদ্যমান সরকারি পেনশন বিধানেও মৃত পেনশনারের স্ত্রী বা স্বামী পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি—এ মর্মে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সনদের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের দেওয়া সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ, পেনশনভোগী সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করলে পারিবারিক পেনশন চালু রাখার সুযোগ থাকবে। তবে পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রে পারিবারিক পেনশনের যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

গেজেট অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিকালের ভিত্তিতে প্রথম পেনশন নির্ধারণের হার ২১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছর চাকরিকালে এ হার ২১ শতাংশ, ছয় বছরে ২৪ শতাংশ, সাত বছরে ২৭ শতাংশ, আট বছরে ৩০ শতাংশ এবং নয় বছরে ৩৩ শতাংশ। ১০ বছরে ৩৬ শতাংশ, ১১ বছরে ৩৯ শতাংশ, ১২ বছরে ৪২ শতাংশ, ১৩ বছরে ৪৫ শতাংশ এবং ১৪ বছরে ৫১ শতাংশ হারে পেনশন নির্ধারণ হবে।

এ ছাড়া ১৫ বছরের চাকরিকালে ৫৪ শতাংশ, ১৬ বছরে ৫৭ শতাংশ, ১৭ বছরে ৬০ শতাংশ, ১৮ বছরে ৬৩ শতাংশ, ১৯ বছরে ৬৯ শতাংশ এবং ২০ বছরে ৭২ শতাংশ হারে পেনশন নির্ধারণ করা হবে। ২১ বছরে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭৮ শতাংশ, ২৩ বছরে ৮১ শতাংশ, ২৪ বছরে ৮৭ শতাংশ এবং ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালে ৯০ শতাংশ হারে পেনশন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।গেজেটে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া নিট পেনশনের ভিত্তিতে নতুন নিট পেনশন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন পর্যায়ের পেনশনে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি রাখা হয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ। এ পর্যায়ে ন্যূনতম নিট পেনশন ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা।

২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে ন্যূনতম নিট পেনশন ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা।

৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি হবে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিট পেনশন ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা।

আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে ন্যূনতম নিট পেনশন ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গেজেটে আরও বলা হয়েছে, কোনো বিদ্যমান পেনশনভোগী ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকা অতিরিক্ত নিট পেনশন পেয়ে থাকলে পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের আগে পর্যন্ত তিনি বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল অনুযায়ী আনুতোষিকের হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১০ বছরের কম চাকরিকালের জন্য প্রতি টাকায় ২৬৫ টাকা, ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরিকালের জন্য ২৬০ টাকা, ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২০ বছরের কম চাকরিকালের জন্য ২৪৫ টাকা এবং ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালের জন্য ২৩০ টাকা হারে আনুতোষিক নির্ধারণ করা হবে।

অবসরের সময় প্রাপ্য অর্জিত ছুটি থাকলে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া অবসর-উত্তর ছুটি ও ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হলে অথবা মারা গেলে বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। চাকরির মেয়াদ আট বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এমন ঘটনা ঘটলে চাকরির প্রতি বছর বা তার অংশবিশেষের জন্য শেষ আহরিত মূল বেতনের তিনগুণ হারে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

গেজেট অনুযায়ী, নতুন বিধানগুলো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ওই তারিখ থেকে অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল ভোগরত কর্মচারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য সুবিধা কার্যকর হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর