চাঁদাবাজির মামলায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বরগুনা প্রতিনিধি আসাদুল হক সবুজকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে কোনো মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও ডোপ টেস্ট করানো এবং হাত পিছ মোড়া অবস্থায় হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলার ঘটনায় বরগুনার স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে বরগুনা সদরের ভুতমারা এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বরগুনা সদর থানায় ১ কোটি টাকা চাঁদাবাজি, অনধিকার প্রবেশ ও ভাঙচুরের অভিযোগে স্বপন কুমার ঘোষ নামের এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিরা তার প্লটের কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি করেন এবং আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আসাদুল হক সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাকে হাত পিছ মোড়া অবস্থায় হাতকড়া পরিয়ে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরপরই সাংবাদিক সবুজকে আদালতে নেয়ার কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যাতে দেখা যায়, সবুজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এবং কোনো দাগী আসামি না হওয়া সত্বেও তাকে হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। অপর আরেকটি ছবিতে পিছমোড়ে হ্যান্ডকাফ বাধা অবস্থায় তাকে পানি পান করতে দেখা যায়। যা অত্যান্ত অমানবিক।
এমনকি কোনো মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মরত সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করা এবং আসামির মতো হাত পেছনে বেধে হাতকড়া পরানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বরগুনার সাংবাদিক সমাজ।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ তার ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিক সবুজকে হাতকড়া পড়া কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, মামলায় আসামি যে কেউ হতে পারে। তবে ঘটনার সাথে কতটা জড়িত তা অবশ্যই আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু গ্রেফতারের প্রক্রিয়াই যদি হয় প্রশ্নবিদ্ধ ! আর তাও একজন সংবাদকর্মীর ক্ষেত্রে। এটা কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। দোষী হলে আইনি ব্যবস্থা হোক, কিন্তু প্রমাণের আগে সকল ধরনের হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এবিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়দার স্বপন বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি যে অভিযুক্তের দোষ বা নির্দোষ তা প্রমাণের একমাত্র জায়গা আদালত। কিন্তু বিচার শুরুর আগেই একজন সংবাদকর্মীকে পিছমোড়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দাগী আসামির মত আদালতে নেয়াটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো অপরাধ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু অপরাধ প্রমাণের আগেই অযাচিত হয়রানির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
সাংবাদিক আসাদুলের বাবা জিয়াউল হক আবু অভিযোগ করে বলেন, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে শালিসকারীদের নামেই চাঁদাবাজি মামলা করেন বাদী এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার ছেলেকে আসামি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের ওপর ভিত্তিহীনভাবে ডোপ টেস্ট চালানো হয়েছে, যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ডোপ টেস্টের মাধ্যমে পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। তাছাড়া তাকে হত্যা মামলার আসামিদের মতো পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেয়া হয়েছে, যা চরম অপমানজনক।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হাসনাইন পারভেজ ডোপ টেস্টের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আসামি গ্রেপ্তারের পর আইন মেনেই সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং হাতকড়া পরানো নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।