বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে জমে উঠছে নির্বাচনী আলোচনা ও প্রচার-প্রচারণা। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ । পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার ও চায়ের আড্ডায় এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়-কে হচ্ছেন আগামী নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং কারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ হাওলাদার। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে, বিএনপির কঠিন সময় ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকার বিষয়টি দলীয় নেতাকর্মীদের আলোচনায় উঠে আসছে। রাজনীতির পেছনে জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করা এই নেতাকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন, রুহুল আমীন মল্লিক,তিনি ১৯৯০ সালে স্বরূপকাঠী সরকারি কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে আসেন । ১৯৯২ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৪ সালে সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন যুবদলের দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালে সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১২ থেকে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে
সোহেল সিকদার,ও শহীদুল ইসলাম চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, তাঁদের ঘিরেও স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। শহিদুল ইসলাম, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপি’র তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন। সোহেল সিকদার,সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক- জিয়া মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির পদে রয়েছেন ।
অপরদিকে, বিএনপি’র দলীয় সমর্থন পেতে উপর মহলে সর্বোচ্চ দৌড়ঝাপের প্রতিযোগিতায় রয়েছেন আবু হানিফ হাওলাদার ও রুহুল আমিন মল্লিক। দলীয় মনোনয়ন ভাগিয়ে নিতে কট্টর প্রতিযোগিতার সম্মুখীন
হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাদের । ভোট বিভক্তির সম্ভাবনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে অন্নপ্রার্থীরা।
এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, আগামী নির্বাচনে যিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন না কেন, তাঁকে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায় এলেও এখনো চূড়ান্ত নির্বাচনী চিত্র স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ও প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান প্রকাশের পর সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।