বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও দেশত্যাগ আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন ভিসা নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘ভিসা নীতিমালা ২০২৬’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিমালাটি অনুমোদনের বিষয়টি সরকারি সূত্র ও আজকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ ও সুশৃঙ্খল করা। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা আকৃষ্ট করা, দক্ষ মানবসম্পদকে বাংলাদেশে কাজের সুযোগ দেওয়া, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরের পথ আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন ভিসা কাঠামোর মাধ্যমে বিদ্যমান ভিসাপদ্ধতিকে আরও আধুনিক, নিরাপদ, গতিশীল ও সেবামুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং পারস্পরিকতার নীতি বিবেচনায় রেখে বিদেশিদের ভ্রমণ ও অবস্থান ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০৬ সালের ভিসা নীতিমালায় ভিসার শ্রেণি ছিল ৩৩টি। নতুন নীতিমালায় তা বাড়িয়ে ৩৪টি করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশিদের বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে আরও সুনির্দিষ্ট শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হবে।
নতুন নীতির ভিত্তিতে আগের সব ভিসাসংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন সময়ে জারি করা পৃথক নির্দেশনার পরিবর্তে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় ভিসা ব্যবস্থাপনা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
নীতিমালাটি বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ভিসা প্রদান ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যও রয়েছে।
সরকারের নতুন উদ্যোগকে বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটন সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহজতর ভিসা কাঠামো বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে বিদেশিদের জন্য প্রবেশ ও অবস্থান সহজ করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালায় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকায় সহজীকরণের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন ‘ভিসা নীতিমালা ২০২৬’ কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশিদের আগমন, অবস্থান ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে আরও আধুনিক ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করছে সরকার।