রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপর ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প ড্রোন হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার আরো ৪০ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, অর্ধেকে নেমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পাঁচ পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা সিটি নির্বাচন: এনসিপির প্রার্থী উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যূত, ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল বন্ধ

রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পাঁচ পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ টাইম ভিউ
রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পাঁচ পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য
ছবি-সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। এসব দাবি নিয়ে আবারও লংমার্চে নামছে তারা; ঘোষণা হয়েছে তারিখও। রংপুর অভিমুখে এই লংমার্চ হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর। এ দিন রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সভা ও রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশ ছাড়াও পাঁচ জেলায় পাঁচটি পথসভা করবে বিরোধী দল।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

১১ দলীয় ঐক্য ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করবে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে। এই উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল আটটা পর্যন্ত। এরপর পথে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। এরপর রংপুর জিলা স্কুলে হবে সমাপনী সমাবেশ।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। আগের ছয় দফার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদে ১১ দলীয় ঐক্য জনস্বার্থ ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছে। আইনশৃঙ্খলা, দেশের নিরাপত্তা, মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভূমিকা রেখেছে বিরোধী দল।

সংসদে বিরোধী দল সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য হওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিল বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, তেল-গ্যাসের সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার কোনো সমাধান দিতে পারেনি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে একটি টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে বলা হয়েছিল। কমিটি গঠনের পর বিরোধী দল ১০টি প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকার এগুলো আমলে নেয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় এলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু সরকার তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস–সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বস্ত্রশিল্পের অর্ডার বাতিল হয়ে সেটি পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু এসব সংকট নিরসনে সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।

বিগত সরকারের ওপর দায় দিলেও বর্তমান সরকারের ছয় মাসে সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ ছিল, সে প্রশ্ন রাখেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। গ্যাসের পাশাপাশি এখন সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ সংকট থাকলে দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। এ জন্য পুরো দেশকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে উল্লেখ করে আযাদ বলেন, একটার পর একটা রোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে। গুম-খুন হচ্ছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলের পাঁচজন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিরোধী দল সংসদে আলোচনা করেছে, রাজপথেও ভূমিকা রাখছে।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার। সবাই মিলে এগিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করা দরকার। কিন্তু সংকট নিরসনে বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব সরকার আমলে নিচ্ছে না।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ছিল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের যে দাবি উঠেছিল, সংসদে ১১ দলের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সে বিষয়ে ভূমিকা রেখে আসছেন। সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জনগণের এই রায় সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ১২০০ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গেও তারা দেখা করেছেন। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা চালানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। অর্ডার বাতিল হয়ে গেলে তা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জাগপার প্রধান মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিডিপির মহাসচিব নাঈম নিজামুদ্দিন নাঈম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর