সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

রামিসা হত্যার রায় ‘তিন মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব’ আশা আইনমন্ত্রীর

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ১০ টাইম ভিউ
রামিসা হত্যার রায় 'তিন মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব' আশা আইনমন্ত্রীর

ঢাকার পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে ‘কার্যকর করা সম্ভব’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। হত্যাকাণ্ড মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তার কথায়, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ যদি অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করেন, তবে ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব’।রোববার (৭ জুন) আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে যে সাত দিনের মধ্যে এই ফাইল চলে যাবে ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে। যাওয়ার পরে সমস্ত মামলায় পেপার বুক রেডি করতে হয়, পেপার বুক বাইরে করার সুযোগ নাই। পেপার বুক সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই হয়। এরপরে সুপ্রিম কোর্ট সিরিয়ালে এই মৃত্যুদণ্ডগুলোর বিষয় নিষ্পত্তি করেন।

রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

অতীতে বিশেষ আদেশে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তির উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, এর ভিতর থেকে দুইটা মামলায় আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিশেষ আদেশে হাই কোর্ট থেকে সম্পন্ন করতে নিষ্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। তার একটি ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আরেকটা ছিল বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা।

রামিসা হত্যা মামলার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি যখন রামিসার এই ঘটনার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেছি, উনিও আমাকে বলেছেন, এই খোলার পরে এই সমস্ত ডেথ রেফারেন্স গুলো, সব ডেথ রেফারেন্স গুলোই খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আরও বেশি ফোকাসড সিদ্ধান্ত নেবেন। এবং আমি এ বিষয়টা লেগে থাকব যাতে করে যেগুলো আপনারা বললেন এবং আজকের রামিসাসহ যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব আমরা এটা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করব।

আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আইনে কতদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে সে বিষয়ে নাই। আপনাদের এখানে আমরা আদালতের কাছে নিবেদন করব সবগুলোই, সবগুলোই যত দ্রুত সম্ভব এটা নিষ্পত্তি করার জন্য করব। এখন আদালতের বিষয় থাকবে। এইটা আমাদের সলিসিটরিং এবং জেনারেল অফিস যৌথভাবে উদ্যোগ নেবেন।

বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আজকের এই যে ফাস্ট ট্র্যাক সরকার একা করেননি, আপনাদের মাথায় রাখতে হবে যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ই জুন পর্যন্ত এই মাননীয় বিচারকদের যে ছুটি ছিল, সেই ছুটি বাতিল না করতেন তাহলে ফাস্ট ট্র্যাক করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হত না।

তিনি আরও যোগ করেন, একটা হল এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ফাইলটা আসে, আমরা যদি তার পরের সপ্তাহ থেকে এটাকে পেপার বুকে দিয়ে দিতে পারি, পেপার বুক যদি ১৫ দিনের মধ্যে আমরা শেষ করতে পারি, তারপরে যদি বিশেষ বিবেচনায় এটা শুনানি করা হয়, শুনানি যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে করি, তারপর অ্যাপিল ডিভিশনে যাবে, এটা তিন মাস থেকে তিন মাসের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামিদের অপরাধের ধরন নিয়ে তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড, এরা তো মানসিকভাবে অপরাধী, কত বড় ক্রিমিনাল চিন্তা করেন। এরকম একটা ঘটনা ঘটিয়ে ১৬৪ করেছেন, এরপর বিচারকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য মামলার রেকর্ডে যা নাই, এরকম আরেকজনকে টেনে এনে ওর উদ্দেশ্যই ছিল যে, বিচার প্রক্রিয়াটা কতটা বিলম্বিত করা যায়। মানুষ ভুলে যায় কি না, মানুষ তার এটা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে নেয় কি না। কিন্তু আমরা আমাদের বিচার প্রক্রিয়ায় যেমন ফোকাস ছিলাম, আমাদের সামনে যা কিছু ম্যাটেরিয়াল ছিল আমরা সেগুলো সামনে নিয়ে এগিয়ে গেছি।

আইনি প্রক্রিয়ার স্তরগুলো বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, হাই কোর্ট ডিভিশনে সেখানেও ধরেন স্টেট ডিফেন্স লয়ার দিতে হবে যদি সে না দেয়। তারপর শুনানির পরে সেখানে যা রায় হয়, যদি এটা বহাল থাকে তার বিরুদ্ধে আবার আপিল বিভাগে যদি তারা যেতে চায় একটা নির্ধারিত সময় থাকে। যদি সেখানে সে আপিল বিভাগে না যায় তাহলে হাইকোর্ট বিভাগের রায় চূড়ান্ত। আর আপিল বিভাগে গেলে সেখানে নিষ্পত্তি হওয়ার পরে রিভিউ পর্যন্ত একটা বিধান আছে। এখন আইনের এই স্তরগুলো আপনার এক্সজস্ট না করে যদি আমরা এই রায় কার্যকর করতে চাই, সেটা আরেকটা দিক উন্মোচন হবে, আরেকটা প্রশ্ন আসবে। বাংলাদেশ জার্নাল

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর