রাশিয়ায় থাকা ইউরোপের চারটি দেশের কোম্পানির সম্পদ সাময়িক ব্যবস্থাপনার অধীনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মস্কো। দেশগুলো হলো ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও বেলজিয়াম।
ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমর্থনকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যখন তলানিতে, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক ডিক্রির মাধ্যমে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জারি করা ডিক্রিতে যেসব কোম্পানির সম্পদের তালিকা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছে ফরাসি মেঝের আবরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘টার্কেট’, জার্মান প্যাকেজিং নির্মাতা ‘মেনশেন’, সুইডিশ প্যাকেজিং কোম্পানি ‘স্ভেরিগে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস’ এবং বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অনটেক্স’।
এ ছাড়া ডিক্রিতে ‘ইভোসিস’ নামের ইউরোপীয় ধাতব প্যাকেজিং ব্যবসার রাশিয়ার সম্পদের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান ‘সোনোকো’ এই ব্যবসা কিনে নেয়। ডিক্রিতে সম্পদগুলোকে সোনোকোর নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ইউনিটের মালিকানাধীন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ইইউভুক্ত দেশগুলোর ‘সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুতায়’ জড়িত থাকার প্রতিক্রিয়ায়। তবে রাশিয়া জোর দিয়ে বলেছে, এই প্রক্রিয়া ‘পরিবর্তনযোগ্য’, অর্থাৎ চাইলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার নতুন এই পদক্ষেপ এমন সময় এল, যখন শুক্রবার ইইউর শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে খবর ছড়িয়েছে, ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ার কিছু সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইইউ রাশিয়ার প্রায় ২৩৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করেছে। পাশাপাশি ইউরোপ ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশে রুশ কোম্পানিগুলোর সম্পদও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেসলে’ এবং খুচরা বিক্রেতা ‘ওশান’ ও ‘মেট্রো’র বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল রাশিয়া।