শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চলমান তাপপ্রবাহে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা শিশু রামিসাকে হত্যা : মামলার ১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে ৭ জুন মুখ খোলো মমতা জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ, ওসিসহ পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে না সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার আইভীর মুক্তির পর বাড়ির সামনে বাড়তি নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরানো সম্ভব : আইআরজিসি কমান্ডার চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

অধ্যাপকের স্ত্রীকে একা পেয়ে খুনের পরিকল্পনা, অতঃপর…

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৯২ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেস্ক : পাবনার ঈশ্বরদীতে গৃহস্থালি কাজে এসে দেখতে পান রাজশাহী কলেজের অধ্যাপক মৃত হাবিবুল্লাহর স্ত্রী হাজেরা খাতুন একা থাকেন। কেয়ারটেকার থাকলেও বৃদ্ধ এবং চোখেও ভাল দেখতে পান না। এমন সুযোগে অধ্যাপকের স্ত্রীকে খুনে পরিকল্পনা এবং টাকা-পয়সা চুরি পরিকল্পনা করেন আবিদ হাসান (৩২)।

পরিকল্পনা অনুযায়ী এক রাতে বৃদ্ধা নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে টাকা-পয়সা চুরি পালিয়ে যান আবিদ। যদিও পালিয়ে যাওয়ার পরও শেষ রক্ষা হয়নি তার, হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পর আবিদকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আকবর আলী মুনসী।

গ্রেফতারকৃত আবিদ হাসান (৩২) পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বিলসলঙ্গি জোলাপাড়া গ্রামের মৃত রতন আলীর ছেলে। ঈশ্বরদীর নতুন হাটের চর সাহাপুর এলাকার লতিফের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের ৫/৬ দিন পূর্বে নিহত হাজেরা খাতুনের বাড়িতে কাজ করেন।

পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আবিদ। হঠাৎ করে ভিকটিম হাজেরা খাতুন বাসায় শিমুল তুলা, সুপারি ও সজিনা পাড়ানোর প্রয়োজন পরলে সে তার বোন আয়শা খাতুনের মাধ্যমে আবিদ হাসানকে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে আবিদ হাসান ঘটনার দিন গত ৩ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে হাজেরা খাতুনের বাসায় আসেন। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে হাজেরাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়ে আসামি আবিদ বালিশ দিয়ে ভিকটিমের শ্বাসরোধ করেন।

তিনি জানিয়েছেন, এ সময় হাজেরা খাতুন জেগে গিয়ে নড়াচড়া করলে সে খাট হতে নিচে পরে যায় এবং নিচে থাকা বাটি লেগে কপাল কেটে যায়। এরপর আবিদ আবার বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে হাতে থাকা চুরি ও কানের দুল খুলে নেয়। পর আলমিরা খুলে ৩০ হাজার সাতশ টাকা এবং একজোড়া কানের দুল নিয়ে বাড়ি তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার আরও জানান, পরে রাত ৮টার দিকে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এসংক্রান্ত মামলা দায়ের পর গত ১২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার কলাতলীস্থ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সংলগ্ন এহসান বোর্ডিং হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক জোড়া সিটি গোল্ডের চুরি, দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ২০ হাজার টাকা এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি নোকিয়া বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ-প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) বিপ্লব কুমার গোস্বামী, ডিবির ওসি এমরান মাহমুদ তুহিনসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর