রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জামালপুরে অনুষ্ঠিত ১৭৫ বছরের সাহিত্য-সাময়িকী আলোচনা রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অপতথ্য ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণ নিয়ে মোদি-ইব্রাহিমের আলোচনা পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’, গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন: স্পিকার বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নৃত্যশিল্পীকে নৌকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব রাখা হবে না: ডিএমপি কমিশনার রাজধানীতে পৃথক স্থান থেকে ৪ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে কাজ করবে চীন: শি জিনপিং

কারাগারে ডাকসুর ভিপি প্রার্থী জালাল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৪ টাইম ভিউ

রুমমেটকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি প্রার্থী জালাল আহমদ ওরফে জ্বালাময়ী জালালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৭ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর ঢাকার মহানগর হাকিম মিনহাজুর রহমান এ আদেশ দেন।জালালকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনের বিপরীতে তার আইনজীবী জায়েদুর রহমান জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করেন বলে শাহবাগ থানার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান।

টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী জালাল হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৪৬২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতের শেষে তিনি রুমমেট মো. রবিউল হককে মারধর করেন ও ভাঙা টিউবলাইট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। বুধবার শাহবাগ থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. আসাদুল ইসলাম জালালকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান।

শুনানিতে জালালের পক্ষের আইনজীবী বলেন, তার রুমমেট অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রুমমেটই প্রথমে তাকে মারধর করে, পরে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা দেন। এছাড়া মামলায় কোনো রিমান্ড আবেদন নেই এবং ভিকটিমের মেডিকেল সার্টিফিকেটও নেই, তাই জামিন প্রার্থনা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষে কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জালালের বক্তব্য জানতে চান। জালাল অভিযোগ করেন, তিনিই রুমমেটের হাতে মার খেয়েছেন। তিনি বলেন, রুমমেটের হল ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। এ কারণে তাকে হলত্যাগে বাধ্য করতে হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি রুমমেট জানতে পেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন।

বিচারককে হাত দেখিয়ে জালাল বলেন, “আমাকে মারার সময় আমি ধরেছিলাম, এতে হাতে আঘাত পাই। অথচ বলা হচ্ছে, আমি তাকে ছুরিকাঘাত করেছি। পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে। আমার রুমমেট বহিরাগত, তিনি হলের ছাত্র নন।”

বিচারক জানতে চান, তিনি কি ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী? জালাল উত্তরে বলেন, হ্যাঁ। তিনি আরও জানান, যেকোনো শর্তে তিনি জামিন চান। বিচারক তখন মন্তব্য করেন, “এখন সবার নজর ডাকসুর দিকে, ওটা দ্বিতীয় সংসদ।”

আদালতে জালাল বলেন, “আমি কোটা আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। আওয়ামী লীগের সময়ে তিনবার জেলে গেছি। এখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেই, তবুও আমাকে আজ আদালতে দাঁড়াতে হলো।”

পরিশেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর