দখলদার ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা শহীদ ১০০ ফিলিস্তিনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজা শহরের জেইতুন এলাকায়। রবিবার আয়োজিত জানাজা ও শোক মিছিলে নিহতদের স্বজন, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ হাজারো ফিলিস্তিনি অংশ নেন।
তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষের কাছে লাশ ও দেহাবশেষগুলো ফিলিস্তিনি পতাকায় মুড়িয়ে রাখা হয়। জানাজায় গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা, নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন। নামাজ শেষে লাশ ও দেহাবশেষগুলো জেইতুনের আল-আহলি কবরস্থানে দাফন হয়।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ১৯ জুলাই শুরু হওয়া উদ্ধার প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, নিহতরা রহিম, বালাউই, মালাকা, কানবুর ও সালমি পরিবারের সদস্য। প্রায় আড়াই বছর আগে কয়েকটি আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তারা নিহত হন।
ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ থাকায় সীমিত সক্ষমতা নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। অল্পসংখ্যক খননযন্ত্র ও জরাজীর্ণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আনাদোলুর হিসাব অনুযায়ী, একসঙ্গে এত মরদেহ ও দেহাবশেষ দাফনের দিক থেকে রোববারের জানাজাটি ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। এর আগে আগস্টের শুরুতে গাজা শহরের সাবরা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ ফিলিস্তিনির জন্য একই ধরনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উদ্ধার প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে গাজা শহর এবং উপত্যকার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে ৮০০ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১ হাজার ৭২টি লাশ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫৪টি বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ ৫৫৯ জনের মধ্যে প্রায় ৩৩৩ জনের লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ওই হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।