রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ঘূর্ণিঝড় রিমাল : হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪
  • ৯৪ টাইম ভিউ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচাতে লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয়ে সরে যেতে সর্বত্র মাইকিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার উপকূলীয় কম্পানিগঞ্জ ও সুবর্ণচর উপজেলায় প্রশাসন নজরদারি রেখেছেন।

রবিবার দুপুর পর্যন্ত জেলার হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কম্পানিগঞ্জ এলকায় কোনো ঝড় বৃষ্টি না থাকলে আকাশ ঘোমট আকার ধারণ করে আছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর সিপিপির ১৭৭টি ইউনিটের সদস্যরা বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রাম অঞ্চলে বেড়িবাঁধে এ মাইকিং করছেন। হাতিয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে অসংখ্য লোকজন বসবাস করেন।

এদিকে ৯ নম্বর মহা বিপৎসংকেত দেওয়ার পর হাতিয়াসহ উপকূলের সব জায়গায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাতিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আলাদা একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।

যাতে দুর্যোগকালীন যেকোনো ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হয়।
হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের ইজারাদার মো. ফাহিম ও তমরদ্দি ঘাটের ইজারাদার মো. মিরাজ বলেন, হাতিয়ার বিভিন্ন নৌ রুটে সি-ট্রাক, ট্রলার, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের জানমাল ও নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাতিয়ার সঙ্গে সব নৌ চলাচল বন্ধ থাকবে।

হাতিয়া সঙ্গে জেলা শহরের নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুটি ঘাটে অনেক চাকরিজীবীসহ সব পেশার মানুষ আটকা পড়েছে।

 

এদিকে হাতিয়া দ্বীপের বেড়িবাঁধের বাইরে যারা থাকেন, তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। অতিরিক্ত জোয়ারের ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য রেডক্রিসেন্ট সেচ্ছাসেবীরা মাইকিং করলেও তারা তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি।

হাতিয়ার অন্যতম স্থান নিঝুম দ্বীপ মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত কোনো বাঁধ না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই দ্বীপ সব সময় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশীস চাকমা জানান, হাতিয়াতে ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হাতিয়ার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ থেকে করা কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৪৬৬ আশ্রয়কেন্দ্র, ১০২টি মেডিকেল টিম ও আট হাজার ৩৬০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও চাল মজুদ রাখা আছে। সেই সঙ্গে জরুরি সহায়তার জন্য ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা, ৩১৯ মেট্রিক টন চাল, ৬৬৩ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও আট হাজার ২২০ কেজি গোখাদ্য মজুদ আছে। এছাড়া প্রত্যেক উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সজাগ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলায় জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ০১৭২৪০৯৬২৬৯ নম্বরে ফোন করে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা যাবে।

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর