অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মা মাছ।
জানা গেছে, বছরের এপ্রিল থেকে জুনের যে কোনো সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথি বা জো থাকতে হবে। কিন্তু এ বছরের এপ্রিল মাস শুরু হওয়ার পরে এরই মধ্যে পাঁচটি জো চলে যায়। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এবং নদীতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় ডিম ছাড়েনি মা মাছ।
সর্বশেষ রবিবার দিবাগত রাতে মা মাছ পুরোপুরি ডিম ছাড়ে। একই সময়ে নদীর স্থানীয় এবং খাগড়াছড়ি, মানিকছড়িসহ নদীর উজানে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি ঢল নামে এবং নদীতে ফেনাসহ পানি প্রবাহিত হয়।
হালদা নদীর রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমার ঘাট, উরখিরচর ইউনিয়নের নাপিতের ঘাট, গহিরা ইউনিয়নের সত্তার মুখসহ হাটহাজারী উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাসমুন্সির হাট, মাছুয়াঘোনা, আমতুয়া, গড়দোয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট সহ নদীর বেশ কিছু অংশে ডিম ছেড়েছে মা মাছ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মনজুরুল কিবরীয়া গণমাধ্যমকে বলেন, এ বছর দেরিতে হলেও হালদা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ডিম ছেড়েছে মা মাছ। রবিবার মধ্যরাতে ডিম ছাড়ে মাছেরা। তিনশ নৌকা নিয়ে জেলেরা সেই ডিম সংগ্রহ করেছেন। একেকটি নৌকা ১৫ থেকে ২০ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছে। আমি নিজেও অনেক ডিম সংগ্রহকারীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এবার পর্যাপ্ত ডিম পেয়ে খুশি। এখন সংগ্রহ করা ডিম ফোটানোর প্রক্রিয়া চলছে।
হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর রবিবার রাতে হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। নদীতে পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের সময়ে পুরো দমে নদীর বিভিন্ন স্থানে ডিম দেয়। ডিম আহরণের জন্য অনেক দিন দরে প্রস্তুত ছিলেন জেলেরা। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে রাত থেকেই নদীতে দলবেঁধে ডিম সংগ্রহ করতে নেমে পড়ে।
তিনি জানিয়েছেন, এ বছর প্রচুর ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে ডিম সংগ্রহকারী সহ হালদা সংশ্লিষ্ট সবার মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে।
রাউজানের দক্ষিণ মোবারক খীলের ডিম সংগ্রহকারী আবু বক্কর বলেন, রবিবার রাতে চারটি নৌকা নিয়ে ৩০ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি।
রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পীযুষ প্রভাকর বলেন, হালদা নদীতে রবিবার রাতে মা মাছ ডিম ছেড়েছে। রাউজান-হাটহাজারী উপজেলার ৩০৮ জন ১৫৫টি নৌকা নিয়ে প্রায় ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেন। ডিম সংগ্রহকারীরা হ্যাচারিতে ও নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ায় ডিম ফুটানোর কার্যক্রম শুরু করেছেন।