সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

নরসিংদীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যার আসামি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১ জুন, ২০২৪
  • ৮৭ টাইম ভিউ

নরসিংদীর সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হাসানকে (৪০) গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা ঘটনার মূলহোতা রাসেল মাহমুদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাসেল মাহমুদ পালিয়ে কাতার হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছিলেন। এ সময় কাতার ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দরে নামা মাত্রই তাকে আটক করে। পরে তাকে ফিরতি ফ্লাইটে দেশে পাঠানো হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাবেক ইউপি চেয়াম্যান মাহবুবুল হাসানকে হত্যার মামলায়
এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি রাসেল মাহমুদ সাউথ আফ্রিকা পালিয়ে যাওয়ার সময় কাতার থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টায় ইমিগ্রেশন পুলিশ নরসিংদী জেলা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আজ বেলা ১১টায় তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। হত্যায় অংশ নেওয়া ও অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন জানানো হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

মোস্তাফিজুর রহমান আরো জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগিরথপুরে নিজ বাসায় ফেরার পথে আকিবুরের এমব্রয়াডারি কারখানার সামনে এলে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে করে ও কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটায়।

এ ঘটনায় মাহবুবুল হাসান এবং তার সঙ্গী সাঈদ হাসান পাপ্পু ও ফরহাদ হোসেন মাটিতে পড়ে যান। পরে দুর্বৃত্তরা মাহবুবুল হাসানের মাথায় ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হাফিজুল্লাহ বাদী হয়ে ২২ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, হত্যার পর এজাহারনামীয় ২নং আসামি মাধবদী থানার পৌলানপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে রাসেল মাহমুদ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কাতার এয়ারলাইনসে করে কাতার হয়ে সাউথ আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাধবদী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়। কিন্তু পুলিশ যখন পৌঁছায়, তখন অভিযুক্ত রাসেল মাহমুদ যে বিমানে চড়ে যাবেন, সেটি উড্ডয়নের জন্য রানওয়েতে চলে যায়। পরে পুলিশ সুপারের সহায়তায় ঢাকার ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রাসেল মাহমুদ কাতার বিমান বন্দরে পৌঁছা মাত্রই কাতার ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে ফিরতি ফ্লাইটে শুক্রবার ভোর ৪টায় দেশে আনা হয়। পরে পুলিশের যৌথ টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার মূল রহস্য ও হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি এবং হত্যায় জড়িত আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হাসান হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়েই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এতে অনেকেই জড়িত। কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ পরিকল্পনা করে আবার কেউ হত্যায় অংশ নিয়েছে। এই হত্যায় যারাই জড়িত, সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ ছাড় পাবে না। গ্রেপ্তার হওয়া রাসেল মাহমুদ হত্যার মাষ্টার মাইন্ড। সে বিপুল পরিমাণে একটি অর্থ ও হত্যায় অংশ নিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাবে না।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন, মাধবদী থানার পৌলানপুর এলাকার হাবিবুর রহমান (৬৫), তার চার ছেলে রাসেল মাহমুদ (৪৫), হিমেল মিয়া (৪৩), জুয়েল মিয়া (৩৯), নবেল মিয়া (২৮)। তাদের মধ্যে রাসেলের বিরুদ্ধে ২টি, হিমেলের বিরুদ্ধে ৩টি ও জুয়েলের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার খানপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে রাব্বী (১৯), কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার ভরতের ছড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে মিঠু (৩৫) ও মাধবদীর কবিরাজপুর এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে লিপু মিয়া (৪৫)। তাদের মধ্যে মিঠু মাধবদীর ওবাইদুল টেক্সটাইল মিলসে কাজ করতেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর