বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
Mostbet Canlı Casinoda Oynamanın Avantajları সপ্তাহে দুই দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Juega En 1xslots Casino Online Disadvantage Miles De Juegos সরকারি কাজে কারা বাধা দিচ্ছেন, শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Рабочее Зеркало 1xbet: Как Найти рабочее Зеркало Сайта 1xbet” নেত্রকোনায় গ্রামীণ ব্যাংক অফিসে অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে গেল মোটরসাইকেল ও নথিপত্র ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তায় এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের জয়পুরে জরুরি অবতরণ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা

প্রাাথমিক বিদ্যালয়ের বিশালাকৃতির ১৫টি গাছকর্তনে, স্থানীয়দের ক্ষোভ

হাবিবুর রহমান মাসুদ, কলাপাড়া প্রতিনিধি :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০২৪
  • ১১৮ টাইম ভিউ
মাসুদ,

তীব্র তাপদাহ থেকে মুক্তি পেতে সরকার এবং পরিশেবিদারা যখন গাছ লাগানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন, ঠিক এই মুহুর্তে কুয়াকাটা ৬০ নং লতাচাপলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫টি বিশালাকৃতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে। কুয়াকাটা পৌরসভার সড়ক সংস্কারের নামে গত শনিবার, রবিবার, সোমবার তিনদিন ধরে এসব গাছ কর্তন করে স্ব-মিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব গাছ কাটার ক্ষেত্রে সরকারী কোন বিধি-বিধান মানা হয়নি। কর্তন করা এসব গাছের মুল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন স্কুলের অভিভাবক এবং প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেটে ফেলা এসব গাছের দ্বায় নিতে রাজি নয় স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং পৌরসভা। গাছ কাটা নিয়ে পৌরসভা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে এসব গাছ সড়ক সংস্কার কাজের জন্য পৌর মেয়র কেটেছে। অন্যদিকে পৌর মেয়র বলছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ কেটেছে। গাছের মালিকানা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক ধুম্রজাল। কেটে ফেলা এসব গাছ নাম মাত্র মুল্যে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। স্কুলের ছায়া বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত এসব গাছ কেটে ফেলায় সৌন্দর্য হানির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যের উপর মারাক্তক প্রভাব ফেলবে বলে জানান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

৬০ নং লতাচাপলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, তিনি সভাপতি থাকাকালীন ওই গাছ কাটার জন্য বলা হয়েছিল। তখন তিনি গাছ কাটতে রাজি হননি। স্কুলের গাছ স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কারো কাটার ক্ষমতা নেই। তবে তিনি শুনেছেন সড়ক সংস্কারের জন্য মেয়র গাছ কেটেছে।

স্কুলের আরেক সাবেক সভাপতি, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক অনন্ত মুখার্জী জানান, তিনি স্কুলের সভাপতি থাকাকালীন স্কুলের সবুজ পরিবেশ বজায় ছিল। স্কুলের শিক্ষার্থীরা গাছের ছায়ায় খেলাধুলা করতো। স্কুলের সবুজ ছায়াবিথির জন্য বরিশাল বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন সেই বিশালাকৃতির ১৫ টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একেকটি গাছের মুল্য ২০-২৫ হাজার টাকা হবে বলে তার দাবী। এসব গাছ প্রধান শিক্ষক নিজেই কর্তন করেছে। এর আগেও ৬-৭টি বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেসব গাছ কি করা হয়েছে তার কোন হদিস নেই। প্রায় ৫ লাখ টাকা মুল্যের গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলে তার দাবী।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কলাপাড়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব সাংবাদিক মেসবাহউদ্দিন মান্নু বলেন, সড়ক সংস্কার কিংবা রাষ্ট্রের স্বার্থে গাছ কাটার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান মেনে গাছ কাটতে হবে। এসব গাছ কাটতে কোন প্রকার বিধি-বিধান মানা হয়নি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক দ্বায় এড়াতে এসব গাছ তাদের নয় বলে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন যা মোটেই কাম্য নয়।

স্কুলের বর্তমান সভাপতি কাউন্সিলর শহিদ দেওয়ান জানায়, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এবিষয় তাকে কেউ জানাননি। সড়ক সংস্কারের জন্য হয়তো পৌর কর্তৃপক্ষ কেটেছে। তিনি এবিষয় পুরোপুরি সবকিছু জেনে তারপর সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ওই গাছ স্কুলের বাউন্ডারী ওয়ালের বাহিরে। স্কুলের গাছ নয়। সড়ক সংস্কারের জন্য পৌর মেয়র এসব গাছ কেটেছে। এখানে আমাদের কোন হাত নেই। এসব গাছ প্রায় ২০ বছর পুর্বে তৎকালীন স্কুল কর্তৃপক্ষ লাগিয়েছে তাহলে এ গাছ স্কুলের নয় কেনো ? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি এই স্কুলে যোগদান করার পর দেখেছেন এসব গাছ বাউন্ডারী ওয়ালের বাহিরে, এর বেশি কিছু তার জানা নেই।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতা নন্দ দাস বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছেন ওই গাছ স্কুলের বাউন্ডারীর বাহিরে। ওগুলো পৌরসভার গাছ, স্কুলের নয়। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

এবিষয়ে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, গাছগুলো বেশি মোটা হয়ে গেছে। যার জন্য বাউন্ডারী ওয়াল ফেটে ভেঙ্গে গেছে। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই কেটে ফেলেছে। তিনি বা পৌরসভার কেউ ওই গাছ কাটেনি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার কথা শুনে প্রধান শিক্ষককে ডেকে কারন দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্নয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ১ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর