বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা আ.লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই: জামায়াত আমির শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে এলাকাছাড়া করল গ্রামবাসী মোবাইলে যেভাবে দেখবেন এইচএসসির ফলাফল ইমরান খানের ‘ভারত ছাড়ার নির্দেশ’ স্থগিত করলেন আদালত চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা বিপি সিং চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাউজানে অস্ত্রের মুখে নারীর ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই! যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত

‘ফ্রি ফায়ার’ খেলা নিয়ে ঘুষিতে নিহত আব্দুল্লাহ !

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১১৫ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেস্ক : মোবাইল গেমস ‘ফ্রি ফায়ার’ খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর সঙ্গে মারামারির একপর্যায়ে নিহত হয় চট্টগ্রামে ইপিজেডে শিশু আব্দুল্লাহ।

ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার মূল আসামি হাসান জানায়, একই মোবাইল দিয়ে গেমস খেলার এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটির পর একে অপরকে ঘুষি মারলে হাসানের ঘুষি গিয়ে আঘাত করে আব্দুল্লাহর শ্বাসনালীতে। এতে অজ্ঞান হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে সে। পরে ঘটনা অন্যদিকে প্রভাবিত করতে মুক্তিপণ চাওয়ার নাটক সাজানো হয় বলেও স্বীকার করে পুলিশের কাছে।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর মনসুরাবাদে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান উপ-কমিশনার (বন্দর ও পশ্চিম) আলী হোসেন। এর আগে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে খুনের সঙ্গে জড়িত ওই কিশোর ও তার মা হাফিজা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার আলী হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকা্য় আবদুল্লাহ নামে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে তাকে খুন করা হয়েছে বলে জানা যায়।
পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এক কিশোরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুইজনই সম্পর্কে মা-ছেলে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ওই কিশোর জানিয়েছে নিহত আবদুল্লাহ ও সে একসঙ্গে বন্দরটিলার হাবীবীয়া তাজবিদুল মাদরাসায় পড়েছে। তখন থেকেই তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। পরে আবদুল্লাহ গ্রামের বাড়ি বরিশালে চলে যায়। পরীক্ষা শেষে সে বাবা-মায়ের কাছে বেড়াতে এসেছিল। তখন তাদের সঙ্গে আবার দেখা হয়।

এরপর আবদুল্লাহকে নিয়ে ওই কিশোর তার বাসায় আসে। তখন বাসায় কেউ ছিল না। ওই কিশোরের মা পোশাক কারখানায় চাকরিতে গিয়েছিল। একসঙ্গে খাবার খায় দুইজনই। মায়ের রেখে যাওয়া মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেইম খেলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সেটা মারামারিতে রূপ নেয়।
আলী হোসেন আরও বলেন, মারামারির একপর্যায়ে আবদুল্লাহর গলার শ্বাসনালীতে জোরে ঘুষি মারে ওই কিশোর। সঙ্গে সঙ্গেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মাথায়ও আঘাত পায় সে। তখন আবদুল্লাহ পানি খেতে চাইলে ওই কিশোর তাকে পানিও খাওয়ায়। সাহায্যের জন্য ওই ভবনের চার তলায় এক বন্ধুর কাছে গেলেও কোনো প্রকার সহযোগিতা ওই কিশোর পায়নি। এরমধ্যেই আবদুল্লাহ মারা যায়। পরে সে তার মাকে কল দিয়ে বিষয়টি জানায়।

এরমধ্যে ওই কিশোর আবদুল্লাহর বাবাকে কল দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় যাতে তাকে কেউ সন্দেহ না করে। মুক্তিপণের টাকা যোগাড় করতে করতে যাতে পালিয়ে যেতে পারে সেজন্যই আবদুল্লাহর বাবাকে কল দিয়েছিল সে। বয়সে কিশোর হলেও মানসিকভাবে সে আরও এগিয়ে। টিভি সিরিয়াল দেখে সে এসব শিখেছে বলে জানিয়েছে।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, গ্রেফতার ওই কিশোরের মা সন্ধ্যায় বাসায় এসে ছেলেকে বাঁচাতে লাশ বস্তাবন্দি করে গুম করার পরিকল্পনা করে। পরে সুযোগ বুঝে আবদুল্লাহর বস্তাবন্দি লাশ রাত দুইটার দিকে দুই ভবনের মাঝে ফেলে দেয়। এরপর ওই কিশোরকে আনোয়ারায় তার খালার বাড়িতে রেখে অফিস করতে চলে যায় তার মা। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে প্রথমে তার মা ও পরে ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর