বহু বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই দাবি করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দি।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের উপ-প্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি বলেছেন, তেহরান এখনও তাদের পূর্ণ সক্ষমতা প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, আমরা এখনও আমাদের নতুন কার্ডগুলো দেখাইনি।
তিনি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘‘নৌ অবরোধকে’’ অকার্যকর বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে প্রায় ১২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালির কাছে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির এই আইনপ্রণেতা বলেছেন, অনেক ইরানি জাহাজ মার্কিন বাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।আঞ্চলিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সাথে সংযোগকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালির মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে কোনও ঘটনা ঘটলে সমুদ্রপথও প্রভাবিত হতে পারে।বোরুজের্দি বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়ে পিছু হটবে না তেহরান এবং আলোচনায় এই বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডারের রাজনৈতিক সহকারী হামাদ আকবরজাদেহ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে নৌবাহিনী নতুন সক্ষমতার ব্যবহার করবে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে এক গণসমাবেশে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আইআরজিসির নৌবাহিনী উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পদ্ধতি এবং নতুন পরিচালন সক্ষমতা ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, এসব সক্ষমতা এই অঞ্চলে বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালায়। এই হামলার জবাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্বার্থের ওপর পাল্টা হামলা চালায় ইরান। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ওই আলোচনা কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে বলেছিলেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। সোমবার তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব মেনে নেওয়া অসম্ভব। কারণ তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা প্রস্তাব করলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দিয়েছে।সূত্র: আনাদোলু