বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা আ.লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই: জামায়াত আমির শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে এলাকাছাড়া করল গ্রামবাসী মোবাইলে যেভাবে দেখবেন এইচএসসির ফলাফল ইমরান খানের ‘ভারত ছাড়ার নির্দেশ’ স্থগিত করলেন আদালত চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা বিপি সিং চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাউজানে অস্ত্রের মুখে নারীর ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই! যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত

বিজয়ের মাস শুরু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৪৭ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেক্স : আজ ১ ডিসেম্বর। শুরু হলো বৈজয়ন্তী উড়িয়ে আসা গৌরবদীপ্ত বিজয়ের মাসের। একই সঙ্গে এ মাসে পূর্ণ হতে চলেছে বিজয়ের ৫২ বছর। স্বাধীনতাকামী বাঙালির হৃদয়ে এই মাসটি মহা আনন্দের, মহা গৌরবের ও অপার্থিব সৌরভের। স্বজন হারানোর বেদনায় একই সঙ্গে শোকেরও।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব, নির্দেশ ও পরিকল্পনায় সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয় এ মাসেই। বাংলাদেশের বুকে স্বাধীনতার রক্তলাল সূর্যোদয়ের ভিত্তি সূচিত হয়েছিল বেশ আগেই। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা ছিল- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ঐতিহাসিক ওই ভাষণে উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতি দৃঢ় শপথ নিয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের।

২৫ মার্চের নির্মম-নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আপামর বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে। এক সাগর রক্ত, ৩০ লাখ প্রাণ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বীর বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে আনে ১৬ ডিসেম্বর। বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তবে এ মাসের প্রতিটি দিনই ছিল ঘটনাবহুল।

পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে অর্জিত এ বিজয় আনন্দ ও গৌরবের। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙালি বীর সন্তানদের সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর জল, স্থল ও আকাশপথে সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ক্রমাগত পরাজিত হতে থাকে তারা। হয়ে পড়ে দিশেহারা।

১৯৭১-এর আজকের দিনে পাকিস্তানের মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়- বাংলাদেশের ভেতরে গেরিলা আক্রমণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেনাবাহিনী আরও ভয়াবহভাবে নিরীহ জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পারে জিঞ্জিরায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একদিনেই হত্যা করা হয় ৮৭ জনকে। বাঙালির জন্মভূমি শত্রুমুক্ত করার লড়াইকে আড়ালে রাখতে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে বেতারে ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। কিন্তু সেদিন তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই বাঙালিকে বিজয় অর্জন থেকে পিছিয়ে দিতে পারেনি। মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করতে তারা মরণপণ লড়াই চালিয়ে যান।

এ অবস্থার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বীর বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে। বাংলাদেশ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠ গর্জে ওঠা সেই রেসকোর্স ময়দানেই পাকিস্তানি বাহিনীকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা হয়।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তখন বাংলাদেশের এই সগৌরব অভ্যুদয় মানতে পারেনি অনেকে। একাত্তরে যখন বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়ে লড়াই করছে, তখন দেশবিরোধী কিছু মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে এ দেশের মানুষের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে। এই স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয়েছিলো রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই বাহিনীর সদস্যরা ত্রাসের সঞ্চার করেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল চিনত না। তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে রাজাকার-আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। হত্যা করেছে দেশের সূর্যসন্তানদের। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে, বাঙালির বিজয় যখন নিশ্চিত- তখন এরা বেছে বেছে দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। দেশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারলেও জাতিকে মেধাহীন করার পরিকল্পনা নিয়ে তারা এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করে। বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে যে ষড়যন্ত্রের বিস্তার, তা স্বাধীনতার পরও বেগবান হয়েছে। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এরপর দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। এই নির্মমতা ইতিহাসেও বিরল।

বাঙালির জীবনে বছর ঘুরে আবার এসেছে সেই বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বাঙালি বিভোর থেকেছে যুগে যুগে। অবশেষে ইতিহাসের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তারই হাত ধরে বাঙালির আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়।

রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ বেয়ে আসা পরম কাক্সিক্ষত বিজয়ের মাস নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। মাসব্যাপী উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিজয়ের ৫২ বছর পূর্তি উদযাপন করবেন দেশের মানুষ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর