শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ‘ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির’ মামলা হয়েছিল: জামায়াত আমির

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ টাইম ভিউ
শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ‘ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির’ মামলা হয়েছিল: জামায়াত আমির
ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। এ সময় তিনি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অতীতে করা একটি ‘ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির মামলা’র প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা, বিরোধী মত দমনের চেষ্টা এবং পাল্টা মামলা দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার সব দলেরই রয়েছে এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর মনে পড়ে যায় যে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ‘ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির’ মামলা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, অতীতে যাঁরা এমন মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁরা কেন এখন একই ধরনের অভিযোগ ও মামলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না।হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং পাল্টা বানোয়াট ও মিথ্যা মামলায় অন্যদের আসামি করা হচ্ছে।তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য কারও পছন্দ না হলে তার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া উচিত। যদি কেউ গুরুতর অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যাদের দায়িত্ব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, তারা যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে জনগণের মধ্যে আস্থা সংকট তৈরি হয় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়ে।

সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই স্বীকার করছেন যে দুর্নীতি কমার পরিবর্তে বেড়েছে। তাঁর মতে, শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল একটি দলের নন, পুরো দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী। তাই দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে না।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর