সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জিয়াকে গুলি করেন মতিউর, হত্যার আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে এরশাদ : জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপর ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প ড্রোন হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার আরো ৪০ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, অর্ধেকে নেমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পাঁচ পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা সিটি নির্বাচন: এনসিপির প্রার্থী উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শ্রমিকলীগের নেতার অত্যাচারে নিজের গ্রামের ভিটে-বাড়িতে যেতে পারছেন শিক্ষিকা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩
  • ২৪৩ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেস্ক : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে শ্রমিকলীগের এক নেতার অত্যাচারে নিজের গ্রামের ভিটে-বাড়িতে যেতে পারছেন না সরকারি কর্মজীবী এক স্কুল শিক্ষিকা ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষিকা কামরুন্নাহারের জমি দখল করে বাড়ি তৈরি করছেন হাটিকুমরুল ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন। নির্মাণকাজে আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ক্ষমতার জোরে আদালতের রায়কে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। নিজের সম্পদ রক্ষায় গ্রাম্য সালিস থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ধন্না দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি আব্দুল হান্নান-কামরুন্নাহার দম্পতির।

নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে শ্রমীক নেতা বেলাল হোসেন নিজ এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের জমি দখল, মারধর ও দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে।

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বগুড়া-পাবনা মহাসড়কের পাশে ২০১৬ সালে বাহেড় আলী প্রামাণিকের ছেলে ও মেয়েদের কাছ থেকে ৫ ডিসিমাল জমি কেনেন আব্দুল হান্নানের স্ত্রী সরকারী স্কুল শিক্ষিকা কামরুন্নাহার। চাকরীর জন্য তিনি এবং তার স্বামী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করেন। অবসর জীবনে ঠিকানা গড়ার জন্য এই জমি কেনেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে তার প্রতিবেশী ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন তার জায়গার পাশে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এ সময় উভয় পক্ষ তাদের জায়গা বুঝে নেয়। এ সময় শিক্ষিকা চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বেলাল হোসেন তার নিজের জায়গার সাথে শিক্ষিকার জায়গার ৩.৫০ ডিসিমাল অংশ জোর করে দখল করে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় এই জায়গাতে থাকা বেশকিছু গাছপালা কেটে ফেলেন বেলাল হোসেন।

পরে শিক্ষিকা বাধা দিলে বেলাল ক্ষমতা প্রয়োগ করে জোর করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গ্রামের মাতব্বরা এবিষয়ে একাধিক বার সালিশে বসলেও এর কোনো কিনারা করতে পারেনি। পরে বাধ্য হয়ে ৩ এপ্রিল তারিখে শিক্ষিকা উল্লাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও গাছ কাটার জন্য আরও একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার করার পর থেকেই বেলাল এই পরিবারকে প্রাণে মারর হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এমনকি ভুক্তভোগীদের তাদের জায়গার কাছে আসতে দিচ্ছে না। আদালত এই মামলায় স্থাপনা না করার জন্য নির্দেশ দিলেও বেলাল হোসেন রাতের আধারে তার বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় একাধিক বার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেন।

এ দিকে বেলাল হোসেনের প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামবাসীকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে বেলাল হোসেন। তার প্রতিবেশী আব্দুল কাইয়ুম সরকার জানান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেলাল হোসেন জমি দখল থেকে শুরু করে নানা অনৈতিক কাজ করে থাকেন। কেউ কিছু বললে মারধর করে।

প্রতিবেশী সাবিনা জানান, আগে থেকেই দেখে আসছি এটি কামরুন্নাহারের জমি কিন্তু বেলাল বাড়ি করার সময় জোর করে জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছে। প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক জানান বেলালের বিরুদ্ধে কথা বললে দলের লোকজন নিয়ে এসে বাড়িতে হামলা করে। তাই ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কামরুন্নাহার বলেছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আমার জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছেন বেলাল হোসেন। তার ক্ষমতা থাকার কারণে আমরা কিছুই করতে পারছি না। উপরন্তু বারংবার সে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে ও মামলা তুলে নিজ জোর প্রয়োগ করছে।

ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, নিয়ম অনুসারেই আমি আমার কাজ করছি। আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজের পক্ষে কাগজপত্র জমা দিলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।

হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল আলম জানান, এ বিষয়ে একাধিকবার সালিশে বসা হয়েছে। কিন্তু সালিশ না মানার কারণে আমরা কিছু করতে পারিনি। এখন এটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আদালত আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দ্রুত সরকারের উচ্চ মহল বিষয়টি নজরে এনে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নেবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর