সকাল থেকে রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ঘর থেকে বের হতে বেগ পেতে হয়েছে নাগরিকদের। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টির পানি দুপুর ১টা পর্যন্তও অনেক এলাকায় ছিল। আজ শনিবার সকালের দেড় ঘণ্টার এমন বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও দেখা গেছে কোমর অব্দি পানি।
সকালে কাজে বের হওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পড়তে হয় বিপাকে ।
সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকার সোলমাইদ ছাপরা মসজিদ এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া একই এলাকার ভাটারা নতুনবাজার যাওয়ার মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পানি জমে ছিল। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভাঙা সড়কের কারণে বিপাকে পড়তে হয়ে এলাকাবাসীদের।
মোহাম্মদ বাবু মিয়া নামে সোলমাইদের এক বাসিন্দা বলেন, এই এলাকায় আর তেমন বড় কোনো সমস্যা না থাকলেও এই বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি একটা বড় সমস্যা। ভাঙা সড়ক দিয়ে চলা সম্ভব হলেও জলাবদ্ধতার সময় ড্রেনের ময়লা আর বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বাসা থেকেই বের হওয়া যায় না। অলিগলিতে ড্রেনের কাজ চলমান থাকলেও কোনো সুফল এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।’
সকালের বৃষ্টিতে রাজধানীর দক্ষিণখান, উত্তরখান, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমণ্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, নূরেরচালা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থানে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
কোথাও কোথাও দুপুরের পরেও পানি জমে ছিল।
সকালের বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুর ১৪, ১০, ১১, ১২, ১ ও ২ নম্বর এলাকার রাস্তায় গুলোতেও পানি জমতে দেখা যায়। এ ছাড়া কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী রোড সহ ধানমণ্ডি ২৭ এলাকার সড়কে দেখা গেছে জলাবদ্ধতা। কিছু কিছু এলাকার সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা যায় ।
পল্লবী থানা এলাকায় কালশী রোডেও পানি জমতে দেখা যায়, কোথাও বুক সমান পানি, আবার কোথাও জমেছে হাঁটু পানি। বৃষ্টিতে বেশির ভাগ অফিসগামী মানুষই ভোগান্তিতে পড়েন। কালশী রোডের ২২ তলা গার্মেন্টসের সামনে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অনেক নারী-পুরুষকে ছাতা মাথায় এই জলাবদ্ধতা পার হতে দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ইউনিক বাসস্ট্যান্ড থেকে জামগড়া পর্যন্ত সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। সড়কটিতে বৃষ্টি না হলেও কলকারখানার পানি জমে থাকে মাসের পর মাস। ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী এই পথে চলাচল করা মানুষদের। এ ছাড়া সকালের বৃষ্টিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারে পানি জমলেও তা স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্কাশন হয়ে যায়।