সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সেতুমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অবস্থান

মোঃ আসিফ
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪
  • ৯৪ টাইম ভিউ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছেন দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী।

বুধবার (২৯ মে) সকাল ১০টার দিকে ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন তারা।


অবস্থান নেয়া দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন: ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন (টেলিফোন) এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল (দোয়াত কলম)। তাদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও দুই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।
প্রার্থীদের অভিযোগ, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই বসুরহাট পৌরসভা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা সমর্থিত প্রার্থী গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুল (আনারস) ও তার প্যানেলের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন (চশমা) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভীন আক্তারের (ফুটবল) সমর্থক ছাড়া কাউকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে আমি নিজেই ভোট দিতে পারিনি। আমার ভাই আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে ওনার ছেলে আমার ভাগিনারাসহ আমাদের এজেন্টদের কেন্দ্রেও ঢুকতে দিচ্ছে না। আমার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। কী ভোট করব এখানে? আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে তারা কেন্দ্র থেকে সব লোক বের করে দিয়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সব ব্যালটে আনারসের সিল মেরে কমপ্লিট করেছে। আব্দুল কাদের মির্জা নিজে একজন মেয়র, উনি নিজেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে আমাদের লোকদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারার আদেশ দিয়েছেন, নিজেও মেরেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গতকাল (মঙ্গলবার) রাত থেকে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। আমাদের সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আমার এক কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। অনেক মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।’

পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, এই ভোট বাতিল করে যেন পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে ভোট নেয়া হয়। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’

দোয়াত-কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান বাদল বলেন, ‘এই উপজেলায় ভোটের পরিবেশ ভোটের আগেও ছিল না। আমরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। ভোটারদের কাছে যেতে পারিনি, ভোট চাইতে পারিনি। আমাদের অনেকভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ সুপারের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘সকালে আমার এজেন্টরা কেন্দ্রে যাওয়ার পর তাদের এজেন্ট ফরমগুলো নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। আমার প্রত্যেক এজেন্টকে মারধর করা হয়েছে। এখন তারা সরাসরি ব্যালটে আনারস প্রতীকে সিল মারছে। আমি ওসি, ইএনও, ডিসি, এসপি সবাইকে জানিয়েছি। দুঃখের বিষয় এখনও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। কিছু কিছু কেন্দ্র থেকে অভিযোগ এসেছে আমাদের কর্মীদের পুলিশ দিয়ে পেটানো হচ্ছে। আনারস প্রতীকের সমর্থক ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্রে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা ভোট মেনে নিতে পারছি না।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর