বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের অন্যতম পথিকৃৎ সেবা প্রকাশনী তাদের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ এবং অব্যবস্থাপনার তথ্য সামনে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সেবা প্রকাশনীর অংশীদার কাজী শাহনূর হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বেশ কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং অডিট বা নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অবিলম্বে সব ধরনের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা মাসুমা মাইমুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, একটি স্বাধীন অডিট ফার্মকে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আর্থিক বিষয়গুলো পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ হাতে আসায় আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জোরালো সন্দেহ দেখা দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২০ সাল থেকে উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা মাসুমা জানান, ব্যক্তিগত নানা প্রতিকূলতা এবং পারিবারিক অসুস্থতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনি এই আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
১৯৬৩ সালের মে মাসে প্রখ্যাত লেখক ও প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা সেবা প্রকাশনী বাংলাদেশে পেপারব্যাক সংস্কৃতি জনপ্রিয় করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে সাহিত্য পৌঁছে দিতে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। থ্রিলার, অ্যাডভেঞ্চার, গোয়েন্দা কাহিনী এবং বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক প্রজন্ম ধরে পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেখকদের আশ্বস্ত করে মাসুমা মাইমুর জানিয়েছেন, বকেয়া রয়্যালটি পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। একইসঙ্গে পাঠকদের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সেবা প্রকাশনী হারিয়ে যাবে না। ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সেবা প্রকাশনী প্রাইভেট লিমিটেড’ হিসেবে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং নতুন ব্যবস্থাপনায় আরও শক্তিশালীভাবে এটি ফিরে আসবে। তদন্ত চলাকালীন কোনো প্রকার অপপ্রচার বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। খুব শিগগির ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক প্রভাব রাখা এই প্রতিষ্ঠানের এমন আকস্মিক স্থগিতাদেশ শিল্প পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অডিট রিপোর্ট এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই প্রকাশনা সংস্থার ভবিষ্যৎ পথচলা।