শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে দুই-তৃতীয়াংশই উচ্চশিক্ষিত ও কোটিপতি: টিআইবি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে ৬ হাজার টন সামরিক সরঞ্জাম পেল ইসরায়েল হামে আরো ২ জনের মৃত্যু পদত্যাগ না করেই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তামিম ইকবাল দেশে জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, লোডশেডিংও কমে গেছে :সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি একটি প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানকে আমরা রক্ষা করেছি : মির্জা ফখরুল টাঙ্গাইল হাসপাতালে মাথায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পড়ে রোগীর মৃত্যু ভরিতে ৪০৮২ টাকা বাড়লো স্বর্ণের দাম, আজ থেকে কার্যকর গুম-খুন ও নির্বাসনের যাতনা আমি বুঝি, শহীদদের স্বপ্ন বৃথা যেতে দেবো না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন: প্রধানমন্ত্রী

স্মার্টফোন আসক্তি কি অকালে আমাদের বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ টাইম ভিউ
স্মার্টফোন আসক্তি কি অকালে আমাদের বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে

আধুনিক জীবনযাত্রায় স্মার্টফোন  আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানবদেহে অকাল বার্ধক্য ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ক্ষতির পাশাপাশি মস্তিষ্কের বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নীল আলো শরীরের মেলানিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা মূলত মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত পাঠায়। এর ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ঘটে এবং মস্তিষ্কের নিউরনের ডেনড্রাইটিক স্পাইন বা স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান শুকিয়ে যেতে শুরু করে, যা মানুষের শেখার ও মনে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রিচমন্ড ইন্টিগ্রেটিভ অ্যান্ড ফাংশনাল মেডিসিন এবং আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, ফোনের প্রতি আসক্তি পাকস্থলীর উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম ধ্বংস করে দেয়। শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ ‘হ্যাপি হরমোন’ বা সেরোটোনিন পাকস্থলীতে তৈরি হয়, যা ঘুমের অভাব ও ডিজিটাল আসক্তির কারণে ব্যাহত হয়।  বিজ্ঞানী জন লা পুমা এই অবস্থাকে ‘ডিজিটাল ওবেসিটি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, মস্তিষ্ক এখন তথ্যে ভারাক্রান্ত থাকলেও প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার ফলে মস্তিষ্কে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি হচ্ছে। একে বিজ্ঞানীরা ‘প্রদাহজনিক বার্ধক্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গবেষণা আরও বলছে, কৃত্রিম আলোর প্রভাবে পাকস্থলীর দেয়াল পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে ক্ষতিকর প্রোটিন সরাসরি রক্তে মিশে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। এই প্রক্রিয়া ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারসের মতো রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া ফোনের প্রতিটি নোটিফিকেশন মস্তিষ্ককে ডোপামিন হরমোনের ডোজ দেয়, যা মানুষকে ফোনের ওপর নেশার মতো নির্ভরশীল করে তোলে। ফলে মস্তিষ্ক সারাক্ষণ অধিকতর উদ্দীপনা খুঁজতে থাকে, যা মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলে এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।

বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়া বেলা ৩টার পর চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পরিহার করার কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত এই নিয়মগুলো মেনে চললে অকাল বার্ধক্য রোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করা সম্ভব।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর