সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

১০ দিনে চার বার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৬ টাইম ভিউ
১০ দিনে চার বার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা মানুষ

ভারতে আরও এক দফা বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। গত ১০ দিনের মধ্যে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হলো। এভাবে দফায় দফায় দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যাতায়াত ভাড়া, নিত্যপণ্যের বাজার ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর।

উন্নত জীবনযাত্রার প্রতিশ্রুতির মাঝে লাগাতার এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। সোমবার রাজধানী দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ২ টাকা ৬১ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকা ১২ পয়সায়। অন্যদিকে, লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ২ টাকা ৭১ পয়সা বাড়ায় তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সায়।

কলকাতার সাধারণ মানুষও এই মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা খেয়েছেন। সেখানে এখন প্রতি লিটার পেট্রল কিনতে খরচ হচ্ছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা। আর ডিজেলের দাম ঠেকেছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি সাত টাকারও বেশি বেড়ে গেছে। মুম্বই ও চেন্নাইয়ের পরিস্থিতিও একই রকম। মুম্বইয়ে এক লিটার পেট্রল ১১১ টাকার বেশি এবং ডিজেল প্রায় ৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চেন্নাইতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ১০৮ ও ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অর্থ শুধু গাড়ি চালানোর খরচ বৃদ্ধি পাওয়া নয়। এর একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দুধ, রুটি ও দৈনন্দিন খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়তে শুরু করেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ১৫ মে প্রথম দফায় এক লাফে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম তিন টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৯ মে দ্বিতীয়বার এবং ২৩ মে তৃতীয়বার মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সোমবার চতুর্থবারের মতো দাম বাড়ানো হলো। ফলে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। ভারত যেহেতু চাহিদার বড় অংশই আমদানি করে, তাই বিশ্ববাজারের এই ধাক্কা সরাসরি দেশের বাজারে এসে লাগছে।

তেল সংস্থাগুলো আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনেও দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে প্রতিদিন তাদের বিপুল আর্থিক লোকসান হচ্ছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বিশ্ববাজারের অজুহাত দেখিয়ে কেন বারবার জনগণের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তার ওপর লাগাতার জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ, ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ এবং ‘আচ্ছে দিন’ বা ভালো দিনের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে এখন সাধারণ মানুষকে বাড়তি খরচের মাশুল দিতে হচ্ছে। সামনে তেলের দাম আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর