শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চলমান তাপপ্রবাহে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা শিশু রামিসাকে হত্যা : মামলার ১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে ৭ জুন মুখ খোলো মমতা জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ, ওসিসহ পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে না সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার আইভীর মুক্তির পর বাড়ির সামনে বাড়তি নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরানো সম্ভব : আইআরজিসি কমান্ডার চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

মিরপুরে জোরপূর্বক হযরত শাহ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কাছ থেকে ১ মাসের পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর

মো:আমিন হোসাইন :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০২৪
  • ৭০ টাইম ভিউ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের অপদস্ত করে পদত্যাগে বাধ্য করার প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি।

ঠিক এরকম একটি ঘটনা ঘটে মিরপুরের হযরত শাহ্ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালেয়র প্রধান শিক্ষিকা নার্গীস আক্তারের সাথে।ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকার সাথে কথা বলে যানা গত(২২ শে আগষ্ট) ইং তারিখে ছাত্র নামের পরিচয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার উপর অতর্কিত আক্রমণ করেন আর সেউ আক্রমণের এক পর্যায়ে সাদা কাগজে ১ মাসের অব্যহতি পত্রতে স্বাক্ষর নেয় পরবর্তীতে আমি অসুস্থ হয়ে পরি আমি আমার সহকর্মীরা আমাকে হসপিটালে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পৌছে দেয়।
হযরত শাহ্ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্রী এই প্রতিবেদককে জানায়, আমাদের হেড আপা আমাদের নিজেদের সন্তানের মত করে ভালোবাসে যেকোন সমস্যা হলে আপার কাছে গেলে আন্তরিক ভাবে সমাধান করে দেয় ঘটনার যারা আসছিলো তারা কেউ ছাত্র বলে আমার মনে হয় না! হেড আপার উপর এক পর্যায়ে আক্রমণ করে সাদা একটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়

রবিবার (২৫ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এমন ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নূরে আলম বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অমৃত কারণ, সুশান্ত ভাওয়াল ও মো. আব্দুস সোবহান মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তমাল দাস লিটন, অর্থ সম্পাদক নিরঞ্জন সরকার, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ফয়েজুল হক ফয়েজ, কেন্দ্রীয় সদস্য পরিমল চন্দ্র ঢালী ও বাশার আল হামিদ।
সভায় নেতারা বলেন, কোন অপশক্তির হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের নাজেহাল করা হচ্ছে। তাদের অপমান-অপদস্ত করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পদত্যাগ করানোর পর ন্যক্কারজনকভাবে উপহাস-বিদ্রুপ করা হচ্ছে। চরম হেনস্তা করে শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় ও তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। বিশ্বের কোনো দেশে এ পর্যন্ত শিক্ষকদের এমনভাবে অপমান ও মর্যাদাহানি করা হয়েছে কিনা— তা জানা নেই।

সভায় বলা হয়, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান যদি কোন অনিয়ম করে থাকে তা অভিযোগ করার সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ করে এর প্রতিকার চাইতে পারে। এভাবে কোন শিক্ষককে অপদস্ত করা একপ্রকার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। যারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে এসব হীন ঘটনা ঘটিয়…
সভায় শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর এমন কর্মকাণ্ড সব সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং এর দায় তাদের উপর যাচ্ছে। যারা এ ধরনের ন্যক্কারজন আচরণ করেছে এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি— যা খুবই দুঃখজনক ও হতাশাজনক। নেতৃবৃন্দ জোরপূর্বক ও বলপ্রয়োগ করে পদত্যাগ করানো প্রধান শিক্ষকদের অবিলম্বে স্বপদে বহাল করতে এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে আমরা সুষ্ঠু সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ দেখতে চাই এবং শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর ও সাবলীল দেখতে চাই। অন্যথায় শিক্ষকরা তাদের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার্থে রাজপথে আন্দোলনে নেমে পড়বে।
এই শিক্ষকদের কে জোর পূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার ব্যাপারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম তার ফেইসবুক ভেরিফাই পেইজে এক ভিডিও বার্তায় জানায় যে, শিক্ষক পদত্যাগের নামে সারা দেশে যা হচ্ছে, যে প্রক্রিয়ায় হচ্ছে সেটা সমর্থনযোগ্য নয় ৷ কেউ যদি ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যায় করে তাহলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনের মধ্য দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচার হোক ৷ কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, মব জাস্টিস করা কখনোই গ্রহনযোগ্য নয় ৷

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যে শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্ক আমাদের শিক্ষার পরিবেশকে সুন্দর করে তুলতে পারে সেই সম্পর্ক যেন তিক্ততার না হয়, দূরত্বের না হয়, ভীতির না হয় ৷

অনেক শিক্ষার্থী হয়তো জানেই না যে তাদেরকে ব্যবহার করে অন্য শিক্ষক এই কাজটি করাচ্ছে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ৷ যারা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অন্যায় প্রক্রিয়ায় এই কাজগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ ৷

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর