অনলাইন ডেক্স : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা পর্যবেক্ষক হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। বুধবার (২ আগস্ট) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
ইসি আলমগীর বলেন, দেশের মানুষ কোনো না কোনো দলকে সমর্থন করবে। তবে কোনো দলের কমিটিতে আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। এখন সমর্থন করেন, কাকে ভোট দেবেন সেটা তো আর আমরা জানি না। এক সময় করতে পারেন, এখন হয়তো ব্যবসা করেন, বা সামাজিক কাজ করেন। আমাদের নীতিমালায় আছে বর্তমানে যদি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে নিবন্ধন পাবে না।
তিনি বলেন, দেশীয় ২১১টি পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ৯৫টি প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে অনেকের আবার অসম্পূর্ণ তথ্য আছে। যে কারণে এগুলো আরও যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। নতুন করে আর আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে না। কেন না, আমরা একটা সময় দিয়েছিলাম। যদি এমন হয় নির্বাচনের আগে কোনো সংস্থা পর্যবেক্ষক হতে চায়, তখন আমরা কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবো।
একটি সংস্থা মিটিং করে গেলো, তাদের সদস্যের মধ্যে দুই জনের পরিচয়ই জানা যায়নি, দু’জন সাংবাদিক। বিদেশে থেকে এই ধরণের লোক যাতে না আসে সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ থাকবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিদেশে কোনো অফিস নাই। আমরা দেশেরটার খোঁজ খবর নিতে পারি। যতখানি সম্ভব খোঁজ নিয়ে তারপর আমরা অনুমোদন দিই। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থার কে আসল কে নকল সেটা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব না। সেটা দেখার দায়িত্ব হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। যেসব দেশ থেকে পর্যবেক্ষকরা আসবে, সেসব দেশের বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েই ভিসা দেবেন। কোনো সংস্থাকে কিন্তু নাম ধরে ডেকে এনে দাওয়াত দেওয়া হয় না। আমরা ওপেন বলি যে আপনারা আসেন।
ইসি আলমগীর বলেন, আমরা চাইবো, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার যাদের অভিজ্ঞতা আছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নির্বাচন যারা পর্যবেক্ষণ করেছেন, সেটা ব্যক্তি হোক আর সংস্থা হোক এই ধরণের যারা তারাই যেন আসেন। তাহলেই সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তারা সঠিকভাবে নির্বাচনটা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
সম্প্রতি যে চারজন আসলো, তাদের বিষয়ে কী বলবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা কি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক কিনা সে বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তারা একটা আন্তর্জাতিক ফোরাম হিসেবে এসেছে। আমাদের সঙ্গে যারাই আলোচনা করতে চায় তাদেরকেই আমরা সময় দিই। সরকার যদি ভিসা দেয় আমরা তো বুঝতে পারবো না তারা পর্যবেক্ষক কি-না।
তারা পর্যবেক্ষক নয়, গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন এসেছে, নিবন্ধন একটি সংস্থা কেন তাদের এনে ছলচাতুরি করলো তার জবাবদিহিতা চাইবেন কি-না এমন প্রশ্নে ইসি আলমগীর বলেন, আমরা তো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ভবিষ্যতে আমরা দেখবো। এখন গণমাধ্যমের সব খবর দেখে তো আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো না। আমাদের তো আরো অনেক কাজ আছে।
অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, যদি দেখা যায় জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে, স্থানীয় নির্বাচনে করেনি, আবার কেউ যদি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে থাকে কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে করেনি, তাহলে তো আমরা বাদ দিতে পারি না। কারণ আমরা তো তাদের টাকা পয়সা দেই না। এখন নিবন্ধন পাওয়ার পর একেবারেই যদি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করে থাকে তাহলে তো হবে না।