বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিতের আলোচনা আগামী বছর গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৫ কর্মকর্তার রদবদল শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান গার্মেন্টস মালিকদের বরগুনায় যৌন নিপীড়ন থেকে বাচতে চলন্ত অটো থেকে লাফ দিল দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বছরে ১৫৪ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন শ্রমিকদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্টরা ঢুকলে দায় সরকারের: নাহিদ ইসলাম দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বদ্ধের প্রতিশ্রুতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরু

২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নতুন করে যাচাই করা হবে: গভর্নর

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৬ টাইম ভিউ
২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নতুন করে যাচাই করা হবে: গভর্নর
২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নতুন করে যাচাই করা হবে: গভর্নর

দেশের ব্যাংকিং খাতের ভাঙাচোরা শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত সংস্কার: চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান।

গভর্নর ড. মনসুর বলেন, ব্যাংক খাতে বড় অনিয়ম ধরতে ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নতুন করে যাচাই করা হবে। ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে এবং জামানত অপ্রতুল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যাংক পরিচালকদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে এবং ৯টি ধুঁকতে থাকা অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়ন করা হবে। তবে সাধারণ আমানতকারীদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে, এবং প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অংশিক ফেরত নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সুবিধার্থে ১২ হাজার কোটি টাকার তরলতা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে নতুন আইন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাধীনতা ও গভর্নরের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সঠিক আইনি সুরক্ষা থাকলে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার দ্রুততর হবে।

সেমিনারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং এটি জনগণের কল্যাণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের দখলের ফলে ব্যাংক খাত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং খেলাপি ঋণ ৩৬ শতাংশে পৌঁছায়। তিনি বলেন, বর্তমান সংস্কারের ধারাবাহিকতা পরবর্তী সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

ড. মনসুর স্বীকার করেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণের প্রকৃত হার ৩৬ শতাংশ। সংকট মোকাবেলায় তিনি বড় ঋণের ওপর ব্যাংকের নির্ভরতা কমিয়ে বন্ড মার্কেটের বিকাশের ওপর জোর দিতে বলেছেন। আন্তর্জাতিক মানের শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তুলতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে, তবে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর