ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিকাশে এক হাজার টাকার বেশি লেনদেন করতে না পারা, ক্যাশ আউট জটিলতা এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর বড়বাড়ি এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন দুই পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত স্থানীয় ইউনিক ওয়াশিং ও লাবাব ফ্যাশনের শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এ বিক্ষোভ করেন। অবরোধের কারণে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি যানবাহন আটকা পড়ে।নগরের কলমেশ্বর এলাকায় অবরোধের এক পর্যায়ে বিকালে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় গ্রেনেডের আঘাতে কয়েক নারী শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ইউনিক ডিজাইনের শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ইন্সপেক্টর আজাদ রহমান। তবে শ্রমিক আহতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ইউনিক ওয়াশিং কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও সোমবার হঠাৎ বেতন না দিয়েই কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। ফলে বাড়ি ফেরা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় শ্রমিকরা সড়কে নামতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, লাবাব ফ্যাশনের শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিকাশ লেনদেন সীমাবদ্ধ থাকায় তারা টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। বকেয়া টাকা নগদে পরিশোধের অনুরোধ জানালেও কর্তৃপক্ষ তা না মানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, অর্থ সংকটের কারণে বাড়ি গিয়ে দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, অবরোধ চলাকালে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে বিকেলের দিকে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, শ্রমিকরা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেছিল। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।