চলতি মে মাসের প্রথম নয় দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র দেখা গেছে যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী এই নয় দিনে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাসীরা এক হাজার ২৯ মিলিয়ন বা প্রায় ১০২.৯ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গত বছরের মে মাসের প্রথম নয় দিনে এই আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রতি প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং বৈদেশিক আয়ে ধারাবাহিক স্থিতিশীলতাই এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির মূল কারণ বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এই উর্ধ্বমুখী ধারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে গত জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের ৯ মে পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ৩০ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বৈধ পথে দেশে পাঠিয়েছেন।
গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে যা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থবাজারকে শক্তিশালী করছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আগামী দিনগুলোতে দেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ডলারের বাজারে চলমান অস্থিরতা কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন নীতি সহায়তা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিশেষ সেবা এখন বাস্তব ফল দিতে শুরু করেছে। এছাড়া প্রবাসীরা হুন্ডির মতো অনিরাপদ পথ পরিহার করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎসাহী হচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ধারা অব্যাহত রাখতে তদারকি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে প্রবাসীরা আরও সহজে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে পারেন। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেমন শক্তিশালী হবে তেমনি আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সার্বিক জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতেও এটি বড় সহায়ক হবে। মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এখন জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে।